আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখাকে 'বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠন' ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ঢাকা থেকে শাহরিয়ার শরীফ
2016.06.30
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
160630-BD-aqis-report-620.jpg ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে। হত্যার পর আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে। মার্চ ৩০, ২০১৫।
এএফপি

আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখাকে (একিউআইএস) বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এ ছাড়া একিউআইএস প্রধান আসিম ওমরকেও বৈশ্বিক সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে সংস্থার মুখপাত্রের দপ্তরের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে এটি প্রচার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা বিষয়ক অধ্যাদেশ এবং নির্বাহী আদেশের কথা উল্লেখ আছে ওই বিজ্ঞপ্তিতে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই শ্রেণিভুক্তির ফলে একিউআইএসের (আল-কায়েদা ইন দি ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট) এবং এর নেতা আসিম ওমরের সঙ্গে কোন ধরনের লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত মার্কিন নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে কিংবা মার্কিন নাগরিকদের কাছে ওই ব্যক্তিদের স্বার্থ স্থগিত করা হবে।

এর পাশাপাশি একিউআইএস বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকাভুক্তির ফলে তাদের কোন রকম বস্তুগত কিংবা অর্থ-জনবলসহ যে কোন ধরনের সহায়তা কিংবা সহায়তার চেষ্টা কিংবা এসবের ষড়যন্ত্র নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে আল-কায়েদা নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরি এক ভিডিও বার্তার মধ্য দিয়ে একিউআইএস প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সন্ত্রাসী তালিকায় থাকা হারকাত উল-মুজাহিদীনের সাবেক সদস্য আসিম ওমর একিউআইএসের নেতৃত্ব দেন।

২০১৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের করাচি ডকইয়ার্ডে জঙ্গি হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে একিউআইএস। ওই হামলায় জঙ্গিরা পাকিস্তান নৌবাহিনীর একটি ফ্রিগেট ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালিয়েছিল।

বাংলাদেশে মার্কিন নাগরিক ও মুক্তমনা লেখক অভিজিৎ রায়, মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান ও তাঁর বন্ধু, ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু, লেখক ও ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয়ের অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন প্রকাশক ও লেখককে হত্যার দায় স্বীকার করেছে একিউআইএস।

যদিও বাংলাদেশ সরকার দেশটিতে ইসলামিক স্টেট—আইএস বা একিউআইএস–এর অস্তিত্ব আছে বলে মনে করে না। বিভিন্ন ঘটনায় ওই দুটি আন্তর্জাতিক সংগঠন দায় স্বীকার করছে, আর সরকার ওইসব সংগঠনের অস্তিত্ব নেই বলে দাবি করছে।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই ঘোষণার মাধ্যমে মার্কিন নাগরিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, একিউআইএস এবং আসিম ওমর সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত।

ব্যক্তি ও সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে তাদের জনসমক্ষে পরিচিতি আলাদা করা হয়েছে। এর ফলে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় তাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এই তালিকাভুক্তি অন্যান্য মার্কিন সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের সরকারকেও সহায়তা করবে বলে মনে করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।