বইমেলায় এবার গুরুত্ব পাচ্ছে নিরাপত্তার বিষয়টি

ঢাকা থেকে শাহরিয়ার শরীফ
2016.01.29
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
BD-boimela বইমেলায় স্টল নির্মাণের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে, জোরদার করা হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা।
বেনার নিউজ

দুদিন পর মাসজুড়ে ঢাকায় শুরু হওয়া অমর একুশে গ্রন্থমেলায় এবার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে নিরাপত্তার বিষয়টি। মেলা উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা একাডেমী এলাকা মুখর হয়ে উঠবে, জনতার ঢল নামবে প্রতি বিকেলে।  

একুশে বইমেলা চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র–শিক্ষক কেন্দ্রে গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি দুষ্কৃতকারীদের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় নিহত হন। গুরুতর আহত হন অভিজিতের স্ত্রী লেখক বন্যা আহমেদ।

ওই আলোচিত ঘটনার বিচার আজও হয়নি। এরই মধ্যে চলে এসেছে আরেকটি বইমেলা।

অভিজিৎ ছাড়াও এর আগে ২০০৪ সালে প্রখ্যাত লেখক হ‌ুমায়ূন আজাদের ওপরে এই বইমেলাতেই হামলা হয়েছিল এবং পরে তিনি মারা যান। সম্প্রতি জাগৃতির প্রকাশক ফয়সল আরেফীন দীপনকে হত্যা করা হয় অভিজিতের বই প্রকাশ করার জন্য।

একাধিক প্রকাশক বলছেন, জঙ্গি হামলার আতঙ্ক রয়েছে প্রকাশকদের মধ্যেও। মুক্তচিন্তার বইও এবার কম প্রকাশ হচ্ছে।

এবার বইমেলার নিরাপত্তা নিয়ে বেশ চিন্তিত বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষও। সে জন্য এবার মেলায় আসা নিশ্চিত করতে নেওয়া হচ্ছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

“এবারের বইমেলায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বইমেলার ব্যবস্থাপনা যে কোন বছরের তুলনায় নিপুণ। পুরো মেলাকে দৃষ্টিনন্দন ও পাঠকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ঢেলে সাজানো হয়েছে,” সাংবাদিকদের জানান একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান

বইমেলার সার্বিক বিষয় জানাতে আজ শনিবার বিকালে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে  বাংলা একাডেমি।

মহাপরিচালক জানান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কয়েকটি ক্যাম্প থাকবে, থাকবে ওয়াচ টাওয়ার। মেটাল ডিটেক্টর ও আর্চ ওয়ের নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে সবাইকে মেলায় প্রবেশ করানো হবে।

এর আগের বছরগুলোতে যেখানে ৬০টি সিসি টিভি ব্যবহার করা হতো সেখানে এবার প্রায় ৩০০ সিসি টিভি ব্যবহার করা হবে।

গতকাল বইমেলা চত্বরে হাতুড়ি-পেরেকের ঠোকাঠুকি আর স্টল সাজানোর আমেজ লক্ষ্য করা যায় । স্টলের অঙ্গসজ্জায় ব্যস্ত সময় পার করছিলেন মিস্ত্রি ও রঙতুলির শিল্পীরা।

পহেলা ফেব্রুয়ারি বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাজার হাজার নতুন বইয়ের গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে মাসজুড়ে লাখ লাখ পাঠক ভীড় করবেন বইয়ের স্টলগুলোর সামনে।

বাংলা একাডেমি এবার বইমেলার পরিধি বাড়িয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে মেলার স্টল বসবে। মুক্তমঞ্চ চলে আসছে মেলা চৌহদ্দির ভেতরে। প্রতিদিন থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিশু কর্নারও চলে আসবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে।

“এ বছর রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত। সহিংস আন্দোলন নেই। মেলার পরিধি বাড়ছে। একটি সুন্দর বইমেলার সব আয়োজন  দেখছি ,” বেনারকে জানান জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ওসমান গণি।

১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি একাডেমির বটতলায় মাত্র ৩২টি বই নিয়ে একাই বইমেলার আয়োজন করেছিলেন ‘মুক্তধারা’ প্রকাশনীর চিত্তরঞ্জন সাহা। ঘাসের ওপরে চট বিছিয়ে বই নিয়ে বসেছিলেন তিনি। যুদ্ধের পর স্বাধীন দেশে এটাই ছিল প্রথম বইমেলা।

১৯৭৬ সালে এসে মেলায় যোগ দেয় আহমদ পাবলিশিং হাউস। এরপর ১৯৭৭ সালে একে একে যোগ দেয় নওরোজ কিতাবিস্তান ও চল‌ন্তিকা। বাংলা একাডেমী ১৯৭৮ সালে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বইমেলার আয়োজন শুরু করে ।

১৯৮৪ সালে বাংলা একাডেমী বইমেলা নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’। তবে তা এখন ‘অমর একুশে বইমেলা’ হিসেবেই সবার কাছে অধিক পরিচিত।

দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে অমর একুশে বইমেলা-২০১৬-এর পরিসর বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা জোরদারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

“অতীতের সব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার পরিকল্পনা করছি আমরা,” বেনারকে জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী।

ফেব্রুয়ারির ১ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বইপ্রেমীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে মেলা।

“আমরা একটি সর্বোচ্চ নিরাপদ একুশে বইমেলা চাই। কিন্তু এবার নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্ন বিশেষভাবে সামনে চলে আসছে,” বেনারকে জানান নিনা ফেরদৌসি, যিনি ময়মনসিংহের একজন কলেজ শিক্ষক হলেও প্রতিবছর একুশে বইমেলায় যোগ দেন।



চলছে কলকাতা বইমেলা

২৭ জানুয়ারি থেকে কলকাতায় ‘৪০তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা-২০১৬’ শুরু  হয়েছে, চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ পর্যন্ত। প্রতি বছরের মতো এ বছরও এ বইমেলায় বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করছে।

কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় প্রতিবছর বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করে থাকে।

“আন্তর্জাতিক এই মেলায় আমাদের সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও দৃষ্টিনন্দন অংশগ্রহণ বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে,” বেনারকে জানান বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির নির্বাহী পরিচালক কামরুল হাসান শায়ক।

কলকাতা বইমেলায় পাঁচটি সরকারি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। এগুলো হচ্ছে; বাংলা একাডেমী, নজরুল ইনস্টিটিউট, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি।

এ ছাড়া বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি সংশ্লিষ্ট ৩০টির অধিক বেসরকারি প্রকাশনা সংস্থা এতে অংশগ্রহণ করছে।
প্রতিবছর কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় দেশের ঐতিহ্যবাহী ভবন বা স্থাপনার আদলে ‘বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন’ নির্মাণ করা হয়। এ বছর বর্ধমান হাউসের আদলে এ প্যাভিলিয়নটি নির্মাণ করা হবে।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অন্য বছরের মতো এবারও বইমেলা চলাকালীন নির্দিষ্ট একটি দিনকে ‘বাংলাদেশ দিবস’ হিসেবে উদ্‌যাপন করা হবে।


মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।