জঙ্গি সন্দেহে আটক ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার‏

ঢাকা থেকে জেসমিন পাপড়ি
2015.12.29
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
BD-jmb জেএমবি সদস্য অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটকের পর তিন শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল করেছে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বেনার নিউজ

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটকের পর তিন শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল করেছে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জঙ্গি সম্পৃক্ততার ঘটনা নতুন নয়। তবে দিনে দিনে তা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদরা। জঙ্গি সম্পৃক্ততা রুখতে পারিবারিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদেরকে রাজনীতি সচেতন ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে তোলার পরামর্শ দেন তারা।

চট্টগ্রাম বিশ্বাবদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃতরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল মাহমুদ (২৬) ও শওকত রাসেল (২৬) এবং নাইমুর রহমান নয়ন (২৫)। এদের মধ্যে ফয়সাল ও রাসেল মাস্টার্সের ছাত্র। আর অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়া নয়ন ‘ইসলামী ছাত্র শিবিরের’ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি গোয়েন্দা পুলিশের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী জানান, ‘তিন ছাত্র জঙ্গি কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে মর্মে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট থেকে চিঠি পাওয়ার পর ‘উপাচার্যের নির্বাহী ক্ষমতাবলে’ মঙ্গলবার এই তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে।
গত শনিবার দিনব্যাপী অভিযানে চট্টগ্রাম নগরীর নালাপাড়া, কাজীর দেউরী ও কসমোপলিটন এলাকা থেকে এ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, আটকের পর রাসেলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হাটহাজারী উপজেলার আমান বাজার এলাকায় জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার ফারদিনের বাসার সন্ধান মেলে। সেখানে অভিযান চালিয়ে রাইফেল, বিস্ফোরক ও সামরিক পোশাক উদ্ধার করা হয়।

রিমান্ডে তিন ‘জিএমবি সদস্য’

আটকের পর এই ‘তিন জেএমবি সদস্য’কে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের হেফাজতে পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। সোমবার মহানগর হাকিম রহমত আলী রিমান্ড আবেদনের এক শুনানি শেষে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এ আদেশ দেন।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্ত্তী জানান, আসামিদের হাজির করে গত ৬ অক্টোবর কর্ণফুলী থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনে হওয়া মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য  পুলিশ ১০ দিন করে রিমান্ড চাইলে শুনানি শেষে আদালত পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


‘বিপর্যয়ের মুখে পড়বে শিক্ষা ব্যবস্থা’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রাজীব মীর বেনারকে বলেন, “যে কোন নাগরিকের জঙ্গি সম্পৃক্ততা দেশের জন্য উদ্বেগজনক। আর কোন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর জঙ্গি সম্পৃক্ততা দেশ ও জাতির জন্য আরো ভয়াবহ ব্যাপার। এর অর্থ প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে জঙ্গিবাদের নার্সারিং হচ্ছে। দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে বা জঙ্গিবাদ প্রক্রিয়ায় পরিকল্পিতভাবে  ছাত্রদেরকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এটা ভূল পথ। শিক্ষার্থীরা এই ভুল পথে হাঁটলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাও বিপর্যয়ের মুখে পড়বে”।

তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ বা রাজনৈতিক কারণে প্রতিনিয়ত শাররিকভাবে খুনের নানা ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এই জঙ্গিবাদ দেশের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থাকেও মানসিকভাবে খুন করছে। এভাবে শাররিক এবং মানসিক এই দুধরনের আতঙ্ক নিয়ে জাতি হিসেবে বেশিদূর এগুতে পারেনা।

তাঁর মতে,  তাই এ ধরনের জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকদের রুখতে হবে। ছাত্রদের সঠিক পথে আনতে তাদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতন করে তুলতে হবে। এটা দায়িত্ব পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ এমনকি শ্রেনী কক্ষের শিক্ষকদেরকেও নিতে হবে। ঠাত্ররা যেন কোনভাবে রাজনৈতিক খন্ডিত উদ্দেশ্য সাধনের উপায় হয়ে উঠে সে বিষয়টি তাতেরকে বোঝাতে হবে। তবেই স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।


ব্লগার রাজীব হত্যায় রায় বৃহস্পতিবার

এদিকে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলার রায় জানা যাবে বৃহস্পতিবার। যে মামলায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি মো. জসীমউদ্দিন রাহমানীসহ কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের বিচার চলছে।

এরা হলেন- নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ছাত্র রেদোয়ানুল আজাদ রানা, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনস বিভাগের বহিষ্কৃত ছাত্র সাদমান ইয়াছির মাহমুদ, ফয়সাল বিন নাঈম দীপ, এহসান রেজা রুম্মান, মাকসুদুল হাসান অনিক, নাঈম ইরাদ ও নাফিজ ইমতিয়াজ। এদের মধ্যে মামলার প্রধান আসামি রেদোয়ানুল আজাদ রানা ছাড়া সবাই কারাগারে আছেন।

তিন বছর আগে দায়ের হওয়া এ মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত সোমবার  রায়ের দিন ঠিক করেন ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহম্মেদ।

২০১৩ সালে শাহবাগ আন্দোলন শুরুর দশম দিনে ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পল্লবীতে নিজের বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রাজীবকে। এঘটনায় রাজীবের বাবা ডা. নাজিম উদ্দিনের করা মামলার তদন্তে ধর্মীয় উগ্রবাদীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে উঠে আসে।


গাজীপুরে অস্ত্র উদ্ধার  ঘটনায় মামলা

এদিকে গাজীপুরের যোগীতলা এলাকায় জঙ্গি আস্তানায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) অভিযানের ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক দু’টি মামলা হয়েছে। সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) দিনগত রাতে জয়দেবপুর থানায় র‍্যাব-১ এর পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যান) মো. সেলিম বাদি হয়ে মামলা দু’টি দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদে র‍্যাব জানতে পারে, গাজীপুরের যোগীতলা দক্ষিনপাড়া এলাকায় একটি মসজিদ সংলগ্ন পরিত্যক্ত টিনসেড বাড়িতে জঙ্গিরা অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ অবস্থান করে নাশকতার পরিকল্প করছে।

ওই সংবাদের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে র‍্যাব সদস্যরা ওই বাড়ির সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় র‍্যাবকে লক্ষ করে বোমা ছোড়ে জঙ্গিরা। তখন আত্মরক্ষার্থে র‍্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। একটা পর্যায়ে আসামিরা যে ঘরে অবস্থান করছে, সেখানে বোমা বিস্ফোরনের শব্দ শোনা যায়।

এজহারে আরও বলা হয়, র‍্যাব সদস্যরা ওই ঘরে প্রবেশ করে দুই জঙ্গির ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। মরদেহ দু’টোর আশপাশ থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি বিস্ফোরিত বোমার অংশ বিশেষ, ২৯টি ডেটিনেটর, বোম তৈরির বিস্ফোরকসহ সরঞ্জমাদি ও ৪টি জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়।

জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার রেজাউল হাসান জানান, ওই ঘটনায় গত সোমবার রাতে র‍্যাব-১ এর পুলিশ পরিদর্শক মো. সেলিম খান বাদি হয়ে জয়দেবপুর থানায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক দুইটি মামলা দয়ের করেছেন।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন