আওয়ামী লীগ–বিএনপির সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনা

ঢাকা থেকে শাহরিয়ার শরীফ
2016.01.04
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
BD-politics সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের জনসভা হবে শান্তিপূর্ণ।
বেনার নিউজ

উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শর্ত সাপেক্ষে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার রাজধানীতে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কাল সরকারি দল আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এবং বিরোধী দল বিএনপি নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করবে।

প্রসঙ্গত, ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই বছর পূর্তি হবে। দিনটিকে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের বিজয় দিবস ও বিএনপি গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করছে।

গত বছরের ৫ জানুয়ারি সমালোচিত ওই নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তিতে বিএনপির নেতৃত্বে ২০-দলীয় জোট টানা তিন মাস অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচি পালন করে।  সহিংস আন্দোলনে (৫ জানুয়ারি থেকে ৯ মার্চ ২০১৩) ১১৯জন নিহত হন। এদের মধ্যে কথিত বন্দুকযুদ্ধ ও গণপিটুনিতে  নিহত হন ৩৬ জন ।

এর আগে ২০১৩ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪০ দিনে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের নির্বাচনী সহিংসতা ও র‍্যাব-পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন ১২৩ জন।

এবার ওই নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে বিএনপি ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সরকারি দল আওয়ামী লীগও একইস্থানে সমাবেশের ঘোষণা দেয়। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

দুই দলই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। পরে দুটি দলই নিজ নিজ কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে চেয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাছে আবেদন করে।

আওয়ামী লীগ ঢাকার ১৮টি স্থানে সমাবেশ করার ঘোষণা দিলেও সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ ও ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের রাসেল স্কয়ারে সমাবেশ করার কথা জানায়। সোমবার বিকেলে দলটির দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দুই দলকেই নিজ নিজ কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমিত দেন। এরপর বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কিছু শর্ত সাপেক্ষে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়।


পুলিশের শর্ত

ডিএমপি সূত্র জানায়, দুই দলকে দেওয়া শর্তগুলো হলো রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে সমাবেশ করা যাবে না, হাতে লাঠিসোঁটা বহন করা যাবে না, মাইক সীমিত জায়গার মধ্যে থাকবে, মিছিল করে সমাবেশে আসা যাবে না, যানজট সৃষ্টি করা যাবে না, সন্ধ্যার আগেই সমাবেশ শেষ করতে হবে।

“গণতন্ত্র হত্যা, মানুষের ভোটাধিকার হরণকারী শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপনের জন্য নয়াপল্টনের এই জনসমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হবে,” বেনারকে জানান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি ও সাবেক সংসদ জেড. আই মোস্তফা আলী মুকুল।

তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসন দিয়ে বেশি দিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকা যাবে না। বর্তমান সরকার বিরোধীদলীয় নেতা কর্মীদের গ্রেপ্তার করে গোটা দেশ আজ কারাগারে পরিণত করেছে।


আওয়ামী লীগের মনোভাব

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিজেদের রাজনৈতিক বিজয় মনে করে আওয়ামী লীগসহ সরকারের শরিকেরা। তবে এই নির্বাচন নিয়ে তৈরি বিতর্কের কারণে বারবার এটি আলোচনায় আসুক, সেটাও চায় না তারা।

সরকারের নীতি-নির্ধারণী সূত্র জানায়, ভূরাজনৈতিক কারণে ও সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতায় ইতিমধ্যে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের বৈধতা নিয়ে তেমন প্রশ্ন উঠছে না। নির্বাচনটা অবশ্যম্ভাবী ছিল-এটা এখন অনেকটাই প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে সরকার।

“ওই নির্বাচন গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল। বিএনপি-জামায়াত ওই নির্বাচনে না এসে ভুল করেছে। এখন অতীত টানার কোনো সুযোগ নেই,” বেনারকে জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের একজন মন্ত্রী বলেন, এবার ৫ জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের জোরালো কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ ও ‘ভোটাধিকার হরণ দিবস’ স্লোগান দিয়ে মাঠে নামার কারণে আওয়ামী লীগও পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে।


বিএনপির প্রতিক্রিয়া

“সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে, যেখানেই সরকার অনুমতি দেবে, সেখানেই আমরা জনসভা করতে চাই,” সাংবাদিকদের জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা’ অযথা বিএনপির জনসভা নিয়ে ‘রাজনৈতিক উত্তাপ’ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমাদের জনসভা হবে শান্তিপূর্ণ; কোনো রকমের সাংঘর্ষিক কোনো কর্মসূচিতে যাব না।”

“আমরা আশা করতে পারি, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের একটা প্রচেষ্টা থাকবে,” জানান মির্জা ফখরুল।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।