অচল ৩৭টি বিশ্ববিদ্যালয়, দুই পক্ষই অনড় অবস্থানে

ঢাকা থেকে শাহরিয়ার শরীফ
2016.01.12
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
BD-teacher সিলেটে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কর্ম বিরতি পালন করছেন।
বেনার নিউজ

শিক্ষক আন্দোলনে দেশের ৩৭টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় একযোগে অচল হয়ে পড়েছে। ক্লাস ও পরীক্ষা হচ্ছে না। সরকার গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আর শিক্ষকেরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।  

এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পাঁচ মিনিট কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করলেও সেই সুযোগ পাচ্ছেন না দেশের সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। আন্দোলনরত শিক্ষকদের মোর্চা বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতারা গতকাল জানিয়েছেন, গত আট মাসে তাঁরা কমপক্ষে ছয়বার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর সাক্ষাৎ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ না পেলেও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে গতকাল বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন নেতাদের বৈঠক হয়েছে। এর আগেও শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের একাধিকবার বৈঠক হয়।

দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকালের বৈঠকেও কেবল আলোচনা হয়েছে। সংকট নিরসনের কোনো সম্ভাবনা তৈরি হয়নি।

সিলেকশন গ্রেড বহাল, গ্রেড সমস্যা নিরসন ও পৃথক বেতন স্কেলের দাবিতে শিক্ষকেরা আন্দোলন করছেন। সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারী ও শিক্ষকদের বেতন প্রায় শতভাগ বাড়িয়ে যে অষ্টম জাতীয় বেতনস্কেল সরকার ঘোষণা করেছে, তাতে আমলাদের সঙ্গে শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদায় বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে।

এ জন্য শিক্ষকেরা প্রকাশ্য আমলাদের কারসাজিকে দায়ী করছেন। সরকারের অবস্থানও এখন পর্যন্ত আমলাদের পক্ষে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।



আলোচনায় আশাবাদি শিক্ষামন্ত্রী

“গতকালও আমরা আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা করছি। আশা করি অচিরেই সমাধান আসবে,” বেনারকে জানান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

“সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই আন্দোলন চালিয়ে যাব। তাই আলোচনার পাশাপাশি আন্দোলন চলবে,”বেনারকে জানান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

এদিকে চলমান আন্দোলন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে।

লাগাতার কর্মবিরতির শুরুর দিন গত সোমবার রাজধানীতে এক জনসভায় শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “শিক্ষকদের জন্য আরও কিছু করার থাকলে, সরকার সেটা অবশ্যই বিবেচনা করবে। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করবেন না। ক্লাস না নিয়ে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ করলে তারা তা মেনে নেবে না।”

সচিবদের মর্যাদা চাইলে শিক্ষকদের ‘বিসিএস দিয়ে সচিব’ হওয়ারও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে ড. ফরিদ উদ্দিন মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যদি আমাদের কথা শুনতেন তবে এ ধরনের বক্তব্য দিতেন না। আমরা তাঁর বক্তব্যে মর্মাহত ও লজ্জিত।”

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা চলছে—এই তথ্য জানিয়ে ফরিদউদ্দিন বলেন, “আমরা বেতন-ভাতা বৃদ্ধি চাচ্ছি না। আমরা আমাদের সম্মানের জায়গা অক্ষুণ্ন রাখতে এ কর্মবিরতি পালন করছি।”  

এদিকে দেশের ৩৭টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের লাগাতার কর্মবিরতিতে বছরের শুরুতেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে উচ্চশিক্ষা।

সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক আছেন ১২ হাজারের কিছু বেশি। আর শিক্ষার্থী আছেন প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার।

গতকাল দুপুরে মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো দাবি করেছে ছাত্র ইউনিয়ন। ছাত্র ফ্রন্ট শিক্ষকদের দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে।  

“আন্দোলনরত শিক্ষক ও পেশাজীবী সংগঠনসমূহের দাবির প্রতি আমরা সমর্থন জানাই। আমলাদের প্রতি সরকারের পক্ষপাতিত্বের কারণেই এরূপ পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে,” গতকাল এক বিবৃতিতে জানান বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

এদিকে শিক্ষকেরা কঠোর অবস্থানে গেলেও গতকাল পর্যন্ত অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এ বিষয়ে তৎপরতা দেখা যায়নি।

গত দুই দিনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুব শিগগির শিক্ষকদের এই সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা কম। সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে শিক্ষকদের অনড় অবস্থানকে ভালোভাবে নিচ্ছে না।

“আমরা চেষ্টা করছি। সমস্যার সমাধান হতেই হবে। সেটি কীভাবে, সেই পথ খোঁজার চেষ্টা চলছে,” জানান নুরুল ইসলাম নাহিদ।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।