ছিনতাই ও চাঁদাবাজি রোধে প্রয়োজনে গুলির নির্দেশ পুলিশ কমিশনারের

ঢাকা থেকে শাহরিয়ার শরীফ
2016.06.23
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
20160623-BD-Police620.jpg রাজধানীর গাবতলীতে আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক-সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। জুন ২৩, ২০১৬।
ঢাকা মহানগর পুলিশ

কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একের পর এক জঙ্গি নিহত হওয়ার মধ্যে নতুন ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ছিনতাই কিংবা চাঁদাবাজির মতো অপরাধ দমনে প্রয়োজনে পুলিশ গুলি ছুড়বে।

এই হুঁশিয়ার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ–উৎকন্ঠা সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্যে তাঁরা অনুমান করছেন যে, ঈদের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আরও কিছু হত্যাকাণ্ড ঘটবে।

মানবাধিকার কর্মীরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি চাইলেও কথিত বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারের পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়ায় অপরাধীর শাস্তি চান।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বেনারকে বলেন, “ক্রসফায়ার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো যাবে না। যাঁরা এটা মনে করেন তাঁরা ভুল করছেন। এটাই যদি হতো তাহলে গত এক যুগে অপরাধের ধরণ ও মাত্রা ক্রমাগত বাড়ত না।”

তিনি প্রশ্ন রাখেন, ২০০৪ সালের পর থেকে কয়েক হাজার মানুষ ক্রসফায়ারে মারা গেছে। কিন্তু অপরাধ কী কমেছে?

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গাবতলীতে আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক-সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় পুলিশ কমিশনার চাঁদাবাজি ও ছিনতাই ঠেকাতে গুলি করার হুঁশিয়ারি দেন।

চুরি, ছিনতাই, এমনকি রাহাজানি নিম্নতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে দাবি করে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, “শুধু পোশাকি পুলিশ নয়, গোয়েন্দা পুলিশ রন্ধ্রে রন্ধ্রে নগরের বিভিন্ন জায়গায় ছদ্মবেশে দাঁড়িয়ে আছে। যদি কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে, তাৎক্ষণিক তাঁরা হস্তক্ষেপ করবে। প্রয়োজনে গুলি ছুড়বে। সন্ত্রাসীদের দমন করবে।”

উল্লেখ্য, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীতে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে গেছে। ছিনতাইকারী, মলম পার্টি কিংবা অজ্ঞান পার্টির অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ট।

ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে অজ্ঞান পার্টির দুই শতাধিক সদস্যকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে ছিনতাইয়ের প্রকোপ সেই অর্থে কমেনি।

“এমন কোনো অপতৎপরতা আমাদের প্রিয় ঢাকা মহানগরে হতে দেব না। কোনোভাবেই দুষ্কৃতকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না।,” জানান ডিএমপি কমিশনার।

গুলির নির্দেশের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “কিছুদিন আগেও ব্যাংকের সামনে পাহারা দিতে হত, টাকা ছিনতাই হত। আমাদের গোয়েন্দারা সতর্ক রয়েছে। যদি এ ধরনের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে তবে আমরা প্রয়োজনে গুলি চালাব।”

এ প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার বলেন, আইনে বলা রয়েছে জান ও মাল রক্ষার্থে পুলিশ গুলি ছুড়তে পারবে। তবে গুলি ছোড়ার ক্ষেত্রে ‘আইন মেনে’ পুলিশ তা করবে বলে আশ্বস্ত করেন আছাদুজ্জামান।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ২৯ জুন থেকে মহানগরীতে প্রবেশের ও বের হওয়ার চারটি প্রধান পয়েন্টে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে এবং সাদাপোশাকের পুলিশকে সদা সতর্ক অবস্থায় রাখা হবে।

উল্টোপথে গাড়ি চলবে না

উল্টোপথে গাড়ি চালানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রসঙ্গে গতকালের ওই অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘যে-ই হোক, যত বড় ক্ষমতাশালী হোক, আমাদের ট্রাফিক বিভাগ দেশের আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে এবং এটা অব্যাহত থাকবে। আমরা উল্টোপথে কোনো গাড়ি যেতে দেব না। কোনোভাবেই ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না।”

ঢাকার ভেতরের বাস ডিপোগুলো শহরের বাইরে নেওয়া হলে যানজট অনেকাংশে কমে যাবে বলে মনে করেন তিনি।

স্কুল, কলেজ, আবাসিক এলাকা এবং হাসপাতালের নিকটে হাইড্রলিক হর্ন না বাজানোর পরামর্শ দিয়ে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, “হাইড্রলিক হর্ন শিক্ষার্থী ও রোগীদের মনে চাপ দেয়। এমনকি অনেক মুমূর্ষু রোগী মারা পর্যন্ত যায় হাইড্রলিক হর্নে।”

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন যানবাহন থেকে ইতিমধ্যে চার হাজার হাইড্রলিক হর্ন খুলে নেওয়া হয়েছে।

গতকালের সভায় নগরবাসীকে চলাচলে ফুটওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহারের পরামর্শ দেন ডিএমপি কমিশনার।

“জনস্বার্থে পুলিশের উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমরা সব ধরণের সহযোগিতা করতে চাই। আমরা এ দেশের নাগরিক, সবাই যাতে সুষ্ঠুভাবে চলাফেরা করতে পারে, সেটা আমরাও চাই। এ বিষয়ে মালিক, চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে,” বেনারকে জানান বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক তালুকদার সোহেল।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।