নক্সাল প্রভাবিত এলাকায় সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় সরকারী নীতির ব্যর্থতা প্রকাশ পাচ্ছে

নয়াদিল্লি থেকে আলতাফ আহমেদ
2015.04.14
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
Ind-Maoist ছত্রিশগড়ের সুকমা জেলায় টংপাল পুলিশ স্টেশনে মাওবাদীদের হামলায় ১৫ জন নিরাপত্তা কর্মি নিহত হয়। ছবিঃ ১১ মার্চ,২০১৪
এএফপি

ছত্রিশগড়ে ৪৮ ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে নক্সালদের তথা মাওবাদীদের মারাত্নক আক্রমনে ডজন পুলিশ সদস্য নিহত ও ১৭ জন আহত হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে কেনো কর্তৃপক্ষ সেখানে শুন্য-সহনশীলতার নীতি সত্তেও নাশকতা দমনে ব্যর্থ হচ্ছে।

সর্বশেষ হামলায় দান্তেওয়াদা জেলায় নক্সালরা সোমবার একটি এন্টি-ল্যান্ডমাইন গাড়ি উড়িয়ে দিয়েছে, এতে ৫ জন নিরাপত্তা কর্মি মারা যায় এবং ৭ জন আহত হয়। ঘটনাটি ঘটে সুকমা জেলায় পুলিশের একটি কনভয়ের উপর গুপ্ত আক্রমনে ৭ নিরাপত্তা কর্মি নিহত ও ১০ জন আহত হবার একদিনের মধ্যেই।

পিপল’স ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিস (পিইউসিএল)এর অধিকার কর্মিরা বলছেন, ছত্রিশগড়ে নক্সালদের প্রভাব কমাতে কোনো প্রেস্ক্রিপশন কাজ করবে না, যদিনা কর্তৃপক্ষ আদিবাসীদেরকে বনাঞ্চলের অধিকার না দেয় এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুবিধা দেয়া না হয়।

পিইউসিএল-এর জেনারেল সেক্রেটারী সুধা ভারাদওয়াজ ফোনে বেনার নিউজকে বলেন, “ আমরা সরকারকে আদিবাসীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে বলেছি, তাদের স্বাস্থ্য-শিক্ষা ও বনের উপর অধিকার ফিরিয়ে দিতে বলেছি এবং লোকালয় থেকে উচ্ছেদ হওয়া আদিবাসীদের পূনর্বাসনের কথা বলেছি”।

তারমতে, এতেই নক্সালদের প্রভাব কমবে।রাজ্য সরকার গত কয়েকমাসে ৩০০ নক্সালীকে আত্নসমর্পণ করিয়েছে। কিন্তু বিরোধীদলের অভিযোগ ও মিডিয়ার রিপোর্টে বলা হচ্ছে, এরা সবাই সাধারন গ্রামবাসী আসল নক্সাল নয়। বেসরকারী সংস্থার হয়ে আদিবাসিদের এলাকায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন বাইগা মহাপঞ্চায়েত বলেন, মাওবাদ একটি আদর্শ, জোর খাটিয়ে এটাকে পরাভুত করা সম্ভব না।

এই এনজিও-র আহ্বায়ক রেশমি দিভেদি বেনারকে বলেন, “ আদিবাসীদের যারা বন থেকে ও তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়েছে তাদেরকে পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করা দরকার। সরকারকে বুঝতে হবে বন ও আদিবাসীরা একটি পরিবার, একটিকে আরেকটি থেকে আলাদা করলেই সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়া”।

‘সরকারী বাহিনীর বাড়াবাড়ি’

পিইউসিএল-এর ভারাদওয়াজ বলেন, “ সার্চ অপারেশনে নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজন মূলত সাধারন গ্রামবাসীদের ধরে নিয়ে যায়। এই নির্বিচার গ্রেফতার বন্ধ হওয়া দরকার, বিচার ব্যবস্থা রক্ষা ও বিচ্ছিন্ন করার কাজ বন্ধ হলে আদিবাসীদের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরে আসবে।গত তিন দিনের মারমুখি আক্রমনে প্রতিভাত হয়েছে যে এই গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি দমন সম্ভব নয়”।

রিওয়ালি গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা নুপ্পো ভিমার মতে, মোদী সরকারও মৌলিক সমস্যার সমাধান বাদ দিয়ে সামরিক উপস্থিতির উপর নির্ভর করছে।

‘অধিকারের জন্য লড়াই’

মাওবাদীরা শ্রেনীহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলছে। গরীবদের অধিকারের জন্য লড়াই করছে এবং ভূমিহীন মজুরদের অধিকারের জন্য ছত্রিশগড়ে ৩ দশক ধরে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। মাওবাদীদের কিছু গ্রুপ ২০০৪ সালে কমিউনিস্ট পার্টি অভ ইন্ডিয়া (মাওবাদী)তে যোগ দিয়েছে। এতে ভারতের বৃহত্তর বামধারার উগ্রপন্থি দলের উদ্ভব ঘটেছে। খবর মিডিয়ার।

‘শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিরাট হুমকি’

নক্সালী তথা মাওবাদীরা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারকে এ জন্য শুভ উদ্যোগ নিতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

উত্তর-পূর্ব বিষয়ক বিশেষজ্ঞ বিদ্যানাথ ঝা বেনারকে বলেন, “মাওবাদীরা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য প্রধান বাধা হয়ে উঠেছে। ভয় এবং অস্থিরতা এই অঞ্চলে কর্পোরেট ও পুজিবাদি বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত করে রেখেছে”।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।