পশ্চিমবঙ্গে বৃদ্ধা নান ধর্ষণের ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন গ্রেফতার

নয়াদিল্লি থেকে আলতাফ আহমেদ
2015.06.18
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
Ind-Nun রানাঘাটের মিশনারী স্কুলে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিক মুহাম্মদ সেকন্দার শাখকে (হুডে ঢাকা) পুলিশ আটক করার পর কলকাতার সিআইডি সদর দফতরের কাস্টোডিতে নিয়ে যাচ্ছে। ২৬ মার্চ,২০১৫
এএফপি

পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার রানাঘাটের মিশনারী স্কুলে ডাকাতির প্রাক্কালে বৃদ্ধা এক নানকে ধর্ষণের ঘটনার প্রায় তিনমাস পর প্রধান সন্দেহভাজন নজরুল নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে কলকাতার শিয়ালদহ রেলস্টেশন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এ ঘটনার মূল হোতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের দাবি,  সিআইডি একটি সূত্রে খবর পেয়ে ২৮ বছর বয়সী নজরুল ইসলাম ওরফে নজু নামে বাংলাদেশি নাগরিককে শিয়ালদহ স্টেশনে ধরতে সক্ষম হয়।


জ্যেষ্ঠ এক পুলিশ কর্মকর্তা চিত্তরঞ্জন নাগ এনডিটিভিকে বলেন, “নজরুল কলকাতায় আসার চেষ্টা করছে বলে আমাদের কাছে খবর ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের কর্মকর্তারা শিয়ালদহ স্টেশনে অপেক্ষা করছিল। বনগাঁও থেকে আসা একটি ট্রেন থেকে নামার পরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়”।

পুলিশ সন্দেহ করছে বাংলাদেশ সীমান্তে লুকিয়ে ছিল নজরুল। চিত্তরঞ্জন বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকার কোথাও লুকিয়ে ছিলেন তিনি। সম্ভবত সেখানে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তিনি অবৈধভাবে ভারতে ঢুকে পড়েন। তিনি কোথাও পালানোর চেষ্টা করছিলেন।

ওয়ান ইন্ডিয়া নিউজ জানায়,  নজরুল সহ এ পর্যন্ত ৬ জনকে নান ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে। সিআইডি জুনের শেষ নাগাদ অভিযোগপত্র দাখিল করবে। কিছুদিনের মধ্যে ঘটনার শিকার নান ও অন্যান্যদের জবানবন্দি নেয়া শেষ করার কথা।
আটককৃতদের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার ব্যাপারে পৃথকভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয় নাই, সাংবাদিকরা তাদের সাথে কথা বলার সুযোগ পায় নি।
আরো দুই অভিযুক্ত তুহিন ও বোম্বে সেলিম পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে গণমাধ্যমগুলোতে খবর বেরোয়।


গত ১৪ মার্চ রাত আড়াইটার দিকে এক দল দুষ্কৃতকারী স্কুলের দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে নিরাপত্তারক্ষীকে বেঁধে জেসাস এন্ড মেরী স্কুলের অফিসকক্ষে ঢোকে। তারা অফিস থেকে ১২ লাখ টাকা লুট করে। একপর্যায়ে প্রবীণ নান গণধর্ষণের শিকার হন।

এই ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ওঠে। দাবি ওঠে ধর্ষক ও ডাকাতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির। এরপরই এ ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি)। তদন্তে নেমে ইতিমধ্যে সিআইডি পুলিশ উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে গোপাল সরকার, মুম্বাই থেকে সালিম শেখ, বনগাঁও রেলস্টেশন থেকে খালেদুর রহমান ওরফে ফারুক, শিয়ালদহ স্টেশন থেকে মিলন সরকার ও ওহিদুল ইসলাম বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ শিয়ালদহ থেকে গ্রেপ্তার হলেন নজরুল।

দিল্লি থেকে এক শিক্ষিকা আইমি (৩২) বেনারকে বলেন, “অপরাধী যারা জঘন্য কাজ করেছে তাদেরকে যেনো ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। কর্তৃপক্ষ যেনো অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শক্তভাবে মামলা করে শাস্তির ব্যবস্থা করে”।
ভারতের অন্যান্য শহরে বেশ কয়েকটি চার্চের উপর আক্রমনের পর সরকারের নির্লিপ্ততার সমালোচনা করে আসছে সংখ্যালঘু খৃস্টান সম্প্রদায়ের লোকেরা।

দিল্লি ক্যাথলিক স্যাক্রেড হার্ট ক্যাথেড্রালের সিনিয়র সদস্য ফাদার টমাস জ্যাকব বেনারকে বলেন, “গত ডিসেম্বর থেকে দিল্লি ও মুম্বাইতে কয়েকটি চার্চের উপর হামলা হলো কিন্তু অপরাধীদের পুলিশ ধরতে পারছে না। এই ধরনের ঘটনায় পুলিশের নিস্ক্রিয়তায় অপরাধীরা আরো উৎসাহ পাবে। আমি কমিউনিটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে আবেদন জানাই যাতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করে এই আক্রমনের ঘটনা বন্ধ করার ব্যবস্থা নেন”।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।