জেএমবির ৪ নারী সদস্য গ্রেপ্তার,গুলশান হামলার তদন্তে অগ্রগতি

ঢাকা থেকে শাহরিয়ার শরীফ
2016.07.25
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
20160725-Women-Militants1000.jpg নিষিদ্ধ সংগঠন জামায়াতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) চার নারী সদস্যকে সিরাজগঞ্জের মাসুমপুর উত্তরপাড়া মহল্লার একটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। জুলাই ২৪, ২০১৬।
স্টার মেইল

নিষিদ্ধ সংগঠন জামায়াতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) আটক চার নারীকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নিতে চায় পুলিশ। গত শনিবার দিবাগত রাতে ওই পাঁচ নারীকে সিরাজগঞ্জের মাসুমপুর উত্তরপাড়া মহল্লার একটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

জঙ্গি সন্দেহে এর আগে দুএকজন নারী আটক হয়েছে। কিন্তু আলোচিত এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুলিশ বলছে, ওই নারীদের স্বামীরাও জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাঁদের সন্দেহ হচ্ছে, দেশে বেশ কিছু উগ্রবাদী নারী সদস্য রয়েছে।

আটক চার নারী হলেন নাদিরা তাবাসুম ওরফে রানী (৩০), হাবিবা আকতার ওরফে মিশু (১৮), রুমানা আকতার ওরফে রুমা (২১) ও রুনা বেগম (১৯)। তাঁদের কাছ থেকে গ্রেনেড তৈরির উপকরণসহ বেশ কিছু জেহাদি বই উদ্ধার করা হয়।

গতকাল সোমবার পুলিশ আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। বিচারক মোর্শেদুল আলম মঙ্গলবার এ ব্যাপারে নির্দেশ দিতে পারেন।

সিরাজগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াহেদুজ্জামান বেনারকে বলেন, “আটক চার নারীই বিবাহিত। আমরা জানতে পরেছি, তাদের প্রত্যেকের স্বামীও জেএমবির সঙ্গে জড়িত।”

পুলিশ জানায়, এই চার নারীর দুজনের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুরে ও দুজনের বাড়ি গাইবান্ধায়। এরা সিরাজগঞ্জে ছোটখাট ব্যবসা করছিলেন। পাশাপাশি সাংগঠনিক কাজও করে আসছিলেন।

ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি

এ দিকে সারা দেশে যেসব জঙ্গি হামলা হয়েছে তার প্রতিটিরই কারণ উদ্‌ঘাটনে পুলিশ সক্ষম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক অনুষ্ঠানে বলেন, “আমাদের বাংলাদেশ দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে। গুলশান হামলা তারই একটা ধারাবাহিকতা।”

তিনি বলেন, “যতগুলো প্রমাণ আমাদের কাছে আসছে, সব কটিই একই সুতায় গাঁথা। সব ষড়যন্ত্রের নীলনকশা আমাদের কাছে এসে গেছে।”

একই দিনে মিরপুর পুলিশ লাইনের স্টাফ কলেজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেন, “গুলশানে হামলার ঘটনায় মাস্টারমাইন্ডের নামও ‍আমরা জানতে পেরেছি। খুব শিগগিরই তাদের গ্রেফতার অভিযান শুরু হবে।”

গুলশানে হামলার তদন্তে অগ্রগতির দাবি করলেও, পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগ এ ব্যাপারে মুখ খুলছে না। এই বিভাগটিই আলোচিত এই মামলার তদন্ত করছে। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগ বলছে, প্রাথমিকভাবে গুলশানের জঙ্গি হামলার ঘটনায় জেএমবি জড়িত বলে তাঁরা মনে করছেন।

তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কাউন্টার টেরোরিজমের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম বেনারকে বলেছেন, “তদন্তে বেশ অগ্রগতি আছে, আমরা চেষ্টা করছি।”

গত এক মাসে এই পাঁচ জঙ্গি কোনো কোন জায়গায় অবস্থান করেছেন সে সম্পর্কে পুলিশ একটি উপসংহারে পৌঁছাতে পেরেছে। পুলিশ এও বলছে যে হামলার ঘটনায় জেএমবি জড়িত ছিল।

এর আগে গত রোববার ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিঞা বলেন, জঙ্গি হামলার ঘটনার নেপথ্য হোতাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করা এখন সময়ের ব্যাপার।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বেনারকে বলেন, হামলাকারীরা বসুন্ধরা ও শেওড়াপাড়ার বাড়িতে ছিলেন এ বিষয়ে পুলিশ মোটামুটি নিশ্চিত। তবে আটদিনের রিমান্ড শেষে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গিয়াস উদ্দীন আহসান জঙ্গিদের চিনতেন না বলে জানিয়েছেন। একই বক্তব্য দিয়েছেন শেওড়াপাড়ার সাবেক শিক্ষক নুরুল ইসলাম।

গিয়াসউদ্দীন আহসানের এক স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যখন ফ্ল্যাটটি ভাড়া দেওয়া হয় তখন গিয়াসউদ্দীন নিউইয়র্কে ছিলেন। বেশ কয়েক মাস ফ্ল্যাটটি ফাঁকা পড়েছিল। এই পাঁচজন ভাড়া নেওয়ার আগে এক নারী ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। তিনি চলে যাওয়ার পর ফ্ল্যাটটি আবারও ভাড়া হয়। তবে এ সবের কোনো কিছুই গিয়াস উদ্দীন জানতেন না।”

আট দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার দুই শিক্ষককে আদালতে নেওয়া হবে। ভবনের অন্য ভাড়াটিয়াদের তথ্য বাড়িওয়ালারা সংগ্রহ করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে তথ্য নেবে পুলিশ।

বসুন্ধরায় গিয়াসউদ্দীন আহসানের ফ্ল্যাটের তত্ত্বাবধায়ক আলম চৌধুরী কেন ভাড়াটিয়াদের তথ্য নেননি পুলিশ সে বিষয়টি খুঁজে দেখবে বলে জানিয়েছে।

গুলশান হামলার এক সন্দেভভাজন আটক

গুলশান হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কুমিল্লা থেকে মিঠু (২৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সে মুরাদনগর উপজেলার শারমান্দা গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে ও বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস দুলুর পরিবারের গাড়ি চালক ।

ঢাকা মহানগর পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ একটি দল সোমবার বিকালে তাকে আটক করে সন্ধ্যায় তাকে ঢাকায় নেওয়ার কথা জানায় স্থানীয় পুলিশ।

“গুলশান হামলার দিন হলি আর্টিজান বেকারির সামনে একটি সাদা মাইক্রোবাস ঘোরাফেরা করেছিল। মিঠুকে ওই গাড়ির চালক বলে সন্দেহ করা হচ্ছে,” বেনারকে জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার শাহ আবিদ পুলিশ সুপার।

এর আগে গুলশান হামলায় তদন্তে নরসিংদীর শিবপুর থেকে ২১ জুলাই এক নারীকে আটক করা হয়।

উল্লেখ, গত ১ জুলাই রাতে একদল জঙ্গি গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় ঢুকে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করে। পরদিন সকালে নিরাপত্তা বাহিনী ওই রেস্তোরাঁর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সময় ছয় হামলাকারী নিহত হয়।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।