জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে জন কেরির সফরে

ঢাকা থেকে জেসমিন পাপড়ি
2016.08.24
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
20160824-John-Kerry620.jpg গত বছর ওয়াশিংটনে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী। ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৫।
বাংলাদেশ দূতবাস,ওয়াশিংটন

মাত্র কয়েক ঘণ্টার ঝটিকা সফরে বাংলাদেশে আসছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গি হামলা বেড়ে যাওয়ার এ সময়ে কেরির বাংলাদেশ সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্ব গ্রহণের পর ২৯ আগস্ট প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসছেন কেরি। কয়েক ঘণ্টার এ সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এ ছাড়া পেশাজীবী, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও মত বিনিময়ের কথা রয়েছে তাঁর।

এর আগে ২০১২ সালের মে মাসে দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসেন।

সব বিষয়েই আলোচনা হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ২৯ আগস্ট সকালে জেনেভা থেকে ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে জন কেরির। ওই দিন বিকেলেই তিনি দিল্লির উদ্দেশ্য ঢাকা ছাড়বেন। পরদিন (৩০ আগস্ট) ভারতের নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিতব্য ‘ভারত-মার্কিন কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সংলাপে’ অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

জন কেরির সফরের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে ঢাকা-ওয়াশিংটন। দফায় দফায় সরকারের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট।

এদিকে বুধবার এক অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কেরির আসার কথা নিশ্চিত করেন। এ সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সকল দিক নিয়েই আলোচনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জন কেরির এই সফরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও সন্ত্রাসবাদের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।”

বুধবার পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটও বলেন, “বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতেই ঢাকা সফরে আসছেন জন কেরি।”

গুরুত্ব পাবে নিরাপত্তা ইস্যু

কয়েক মাস পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গি হামলা বেড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশ ও জোটের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র এলিজাবেথ ট্রুডো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি’তে জানিয়েছেন, “কেরি সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাতে বৈশ্বিক ইস্যুতে পারস্পরিক ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা আটুট রাখার বিষয়ে আলোচনা করবেন। এছাড়াও তিনি গণতন্ত্র, উন্নয়ন, নিরাপত্তা, ও মানবাধিকারের বিষয়ে দু’দেশের দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ নজর দিবেন”।

বাংলাদেশেও ব্লগার, সমকামী অধিকার কর্মী, বিদেশি নাগরিক হত্যাসহ সাম্প্রতিক জঙ্গিবাদের ঘটনাগুলো নিয়ে বরাবর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে দেশটি।

বিশেষ করে গুলশানে হলি আর্টিজেন রেস্তোরাঁয় হামলার পর নিরাপত্তা ইস্যুতে নড়ে চড়ে বসেছে পুরো ওবামা প্রশাসন। ওই ঘটনার পরপরই মার্কিন সহযোগিতার প্রস্তাব নিয়ে ঢাকায় আসে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল।

তাঁর পর আসছেন জন কেরি। তাই স্বাভাবিকভাবেই দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর পাশাপাশি সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমন ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন থেকেই সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সফরে সে সহযোগিতার বিষয়গুলোও চূড়ান্ত আকার নিতে পারে।

এ বিষয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী বেনারকে বলেন, “মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ঢাকা সফরে আসছেন এটাই একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষিতে যেখানে জঙ্গিবাদ নিয়ে বাংলাদেশের ভিতরে এবং আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আছে, সেখানে দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয়ের পাশাপাশি এসব (জঙ্গিবাদ দমন) বিষয়েও আলোচনা হবে বলে ধরে নেওয়া যায়।”

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফরটি ইতিবাচক উল্লেখ করে সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র আমাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ট ও বিশ্বস্ত বন্ধু। দেশটির সঙ্গে নানাবিধ ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। তাই এ সফরকে আমরা সাধুবাদ জানাই।”

সাবেক রাষ্ট্রদূত মহিউদ্দিন আহমেদ বেনারকে জানান, “এই সফরে নিরাপত্তার পাশাপাশি গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার, শ্রমিকদের কর্মপরিবেশসহ নানা ইস্যু গুরুত্ব পাবে।”

২০১৫ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে জন কেরিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী।

চলতি বছর এপ্রিলে কলাবাগানে ইউএসএআইডি’র কর্মকর্তা জুলহাস মান্নান (৩৫) ও তাঁর বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব তনয়কে (২৫) খুনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন জন কেরি। সেসময় জুলহাস হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করতে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২০ জন নিহত হওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেছিলেন কেরি। এসময় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলে প্রেসিডেন্ট ওবামার পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে জানিয়েছিলেন মার্কিন এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।