এবার দুই মামলায় হুকুমের আসামি খালেদা জিয়া

ঢাকা থেকে শাহরিয়ার শরীফ
2016.05.11
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
2016-05-11-খালেদাজিয়া620.jpg সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
ফোকাস বাংলা

আদালতে অভিযোগপত্র জমা হওয়ার ১০দিন পর জানা গেল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হুকুমের আসামি। মিরপুর ও গাবতলীতে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দুটি মামলায় তিনিসহ দলের ২৭ নেতা–কর্মীকে আসামি করেছে পুলিশ।এক বছরেরও বেশি সময় আগে নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে টানা তিন মাসের হরতাল–অবরোধের মধ্যে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে দুটি মামলা করে পুলিশ।

গত ৩০ এপ্রিল এই অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও বুধবার গণমাধ্যম বিষয়টি জানতে পারে। অভিযোগপত্র দেওয়ার পাশাপাশি খালেদা জিয়াসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে গ্রেপ্তারের আবেদন জানানো হয়েছে।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কমপক্ষে এখন ১৯টি মামলা রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলার সংখ্যা পাঁচটি। এর মধ্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও ২০১০ সালে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে। এই দুটিসহ তাঁর বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা দাঁড়াল কমপক্ষে ২১ টি।

“তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলের নেতার বিরুদ্ধে এ ধরণের হয়রানিমূলক মামলা নজিরবিহীন। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশ্ববাসী জানে এ ধরনের মামলা দিয়ে তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে। কিন্তু সরকার হয়তো এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার স্বপ্ন দেখছে,” বেনারকে জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

তিনি এসব মামলা ও হামলা বন্ধ করে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারকে জনপ্রিয়তা যাচাই করার আহ্বান জানান।

নতুন দুটি মামলা

২০১৫ সালের ৩ মার্চ ঢাকার দারুস সালাম থানার গাবতলী বাস টার্মিনালের দক্ষিণ পাশের বাইপাস সড়কের গ্রেটওয়ালের মাঠে পেট্রল ঢেলে একটি বাসে আগুন লাগানো হয়। থানার উপ পরিদর্শক শাহ আলম এ ঘটনায় বাদী হয়ে মামলা করেন। তিনি ফৌজদারি দণ্ডবিধির  আওতায় ২০ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও অনেককে অজ্ঞাতপরিচয় দেখিয়ে মামলাটি করেন।

আর ফেব্রুয়ারিতে মিরপুর শাহআলী মাজারের কাছে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরেকটি মামলা হয়। থানার এসআই মো. মনির হোসেন বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ‘অনেককে’ অজ্ঞাতপরিচয় দেখিয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

মামলা দুটির নথি অনুযায়ী, এজাহারে খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ ছিল না। তবে আদালতে জমা হওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার ইন্ধনে আসামিরা পেট্রল দিয়ে বাসে আগুন লাগান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ঢাকার মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক ৯ মে অভিযোগপত্রে সই করেন।

পুলিশ জানায়, ২৪ জনকে দুই অভিযোগত্রেই আসামি করা হয়েছে। ফলে আসামির মোট সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে মোট ২৭ জনে।

দুই মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন বিএনপি নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আমানউল্লাহ আমান, যুবদলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল ও কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়া, মীর শরাফত আলী সপু ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং  খালেদা জিয়ার প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান সোহেল।

অন্য আসামিরা হলেন; মামুন খান, মো.মাকসুদ, মো. ফারুখ, দোলেয়ার হোসেন, মনি হোসেন, এইচ এম ইমরান, রাব্বী সাফায়ত রাব্বী, তপু দেওয়ান, শ্যামল আহমেদ, আব্দুল জব্বার, মো. বাবু, আব্দুর রহিম, মাহবুব হোসেন, সরোয়ার আলম প্রমুখ।

মামলার সাক্ষী লুৎফুর রহমান তাঁর জবানবন্দিতে বলেছেন, ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে বিএনপি দেশব্যাপী অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচি ডাক দেয়। এই কর্মসূচি চলাকালে খালেদা জিয়াসহ ওপরে নাম উল্লেখিত সাত আসামির ইন্ধনে অপর আসামিরা ওই বাসে আগুন ধরিয়ে দেন।

“বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলাটি ৩১ মে  এবং দণ্ডবিধির মামলাটি আগামি ১ জুন আদালতে উঠবে,” বেনারকে জানান আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন।

তিনি বলেন, অভিযোগপত্র দুটি মহানগর হাকিমের আদালতে উপস্থাপন করা হয়। হাকিম তা গ্রহণ করেন।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।