স্ত্রী হত্যা মামলায় বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ,দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি

ঢাকা থেকে শাহরিয়ার শরীফ
2016.06.27
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
Babul-Aktar620.jpg স্ত্রী মিতু খুন হওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার। জুন ৫, ২০১৬।
ফোকাস বাংলা

মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন পর গত শুক্রবার গভীর রাতে  তাঁর স্বামী ও পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে শ্বশুর বাড়ি থেকে  গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় । এই ঘটনায় দেশ জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য নিয়ে দেশের গণমাধ্যমগুলো নানা প্রশ্ন তুলে যাচ্ছে।

গত ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামের জিইসি এলাকায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহমুদা খানম। হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর স্বামী বাবুল আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় তিন ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন।

গত রোববার চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলন করে মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল বাহার বলেছেন, “পেশাদার খুনি মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিমই মাহমুদা খানমকে গুলি করে হত্যা করেছে। হত্যাকাণ্ডে ওয়াসিমের সহযোগী মো. আনোয়ারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

রোববার ওয়াসিম ও আনোয়ার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে ওয়াসিম জানিয়েছে, সে মাথায় গুলি করে মিতুর মৃত্যু নিশ্চিত করে এবং তার সহযোগী আনোয়ার ঘটনাস্থল রেকি (পর্যবেক্ষণ) করে। আবু মুসা নামে বাবুল আক্তারেরই একজন সোর্স ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। মিতুকে তারা আগে চিনতো না, সোর্স মুসাই মিতুকে চিনিয়ে দেয় এবং তাদের বলা হয়েছিল টার্গেট মিতু একজন ‘জঙ্গি নেত্রী’।

এদিকে স্ত্রী হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাসায় ফেরার পর থেকে বাবুল আক্তার কারও সাথে দেখা দিচ্ছেন না, কথাও বলছেন না। বাড়িতে দিন-রাত পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। গণমাধ্যমগুলো বাসার সামনে ভিড় করছে।

রোববার বাবুল আক্তারের শ্বশুর ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বেনারকে জানান, “ভালো কাজের জন্য অনেকে পেশাগত কারণে বাবুলকে ঈর্ষা করেন। বাবুল সেই ঈর্ষার শিকার।” পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে অসংখ্য মামলার তদন্ত করা ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, তদন্তাধীন বিষয়ে বেশি কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা আছে।

বর্তমানে বাবুল আক্তার তাঁর দুই সন্তান নিয়ে শ্বশুর মোশাররফ হোসেনের খিলগাঁওয়ের ভুঁইয়াপাড়ার বাসায় আছেন।

মিতু হত্যার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসন দ্রুত নড়েচড়ে ওঠে। গত ৫ জুন এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সরকারের মন্ত্রী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলে আসছিলেন, জঙ্গিরাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।তবে এখন বলা হচ্ছে পেশাদার খুনিরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু হত্যার সঙ্গে জড়িত আরও দু-একজন ধরা পড়বে।

গত শুক্রবার গভীর রাতে বাবুলকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্দেহভাজন আসামিদের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিতে তাঁকে (বাবুল) ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি মন্ত্রী।

মধ্যরাতে তাঁকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মোবাইল বন্ধ করে দীর্ঘ ১৫ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, “আমি যতটুকু জানি, সেটুকু বলেছি। এরপর আবার জানলে আবার বলব।”

চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. কামরুজ্জামান বেনারকে বলেন, “গত শনিবার ওয়াসিমকে নগরের বাকলিয়া এলাকা থেকে এবং আনোয়ারকে ফটিকছড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।” তদন্তের স্বার্থে আর কিছু বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার সাংবাদিকদের বলেন, খুনে অংশ নেওয়া আসামিরা সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তাঁরা পেশাদার অপরাধী। তবে কার নির্দেশে তাঁরা খুনে অংশ নিয়েছিল তা বলা যাচ্ছে না। সম্ভাব্য সকল বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না।

মামলার বাদী বাবুল আক্তারকে ঢাকার শ্বশুরের বাসা থেকে তুলে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদ নয়, আমি বলব মামলার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তদন্তে যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়, সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। সে ক্ষেত্রে নজরদারির প্রয়োজন নেই।’

উল্লেখ,পুলিশের সংগ্রহ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তিন যুবক প্রথমে মাহমুদা খানমকে মোটরসাইকেল দিয়ে ধাক্কা দেয়। মোটরসাইকেলটিতে বসা (চালকসহ) তিন যুবকের মধ্যে দ্বিতীয়জন মাহমুদার বুকে, হাতে ও পিঠে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে এবং তৃতীয়জন পিস্তল দিয়ে গুলি করে ৪০ থেকে ৫০ সেকেন্ডের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।