সুন্দরবনে গত একমাসে চারবার রহস্যজনক আগুন

ঢাকা থেকে জেসমিন পাপড়ি
2016.04.28
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
2016-04-28-েহল্দীবদলা620.jpg সুন্দরবনে প্রায়ই আগুন লাগছে। সর্বশেষ সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশন এলাকায় আগুন লাগে। এপ্রিল ২৭, ২০১৬।
বেনার নিউজ

বারবার রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের শিকার হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। দফায় দফায় গভীর বনে আগুন লাগলেও এটা নিয়ন্ত্রণে বেশ সময় লাগছে, এতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

পরিবেশবাদিরা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলোকে পরিকল্পিত বলে মনে করছেন। আর সরকার দুষছে বনজীবীদের। সুন্দরবন রক্ষায় বিশেষ সতর্কতা হিসেবে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জে পাস-পারমিট দেওয়া সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।

একমাসে চার বার আগুন

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশন এলাকায় গত একমাসে চারবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুড়ে গেছে মাইলের পর মাইল বন। সর্বশেষ গত বুধবার ধানসাগর স্টেশনের ২৫ নাম্বার কম্পার্টমেন্টের তুলাতলায় আগুন লাগে।

প্রচণ্ড বাতাস ও তাপদাহের মধ্যেই বৃহস্পতিবার আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

এর আগে গত ২৭ মার্চ, ১৩ ও ১৮ এপ্রিল ধানসাগর স্টেশনের নাংলী ক্যাম্প এলাকায় আগুন লাগে। এ জন্য স্থানীয়  দুর্বৃত্তদের দায়ী করে বনবিভাগ। এসব ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে মামলা করা হলেও এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

এ বিষয়ে বনবিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. জহির উদ্দিন আহমেদ বেনারকে বলেন, “মূলত: স্থানীয়রাই এসব অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। আগের দুটি আগুন লাগার ঘটনা তদন্ত করে এমনই প্রমাণ পাওয়া গেছে। জড়িতদের নাম উল্লেখ করে দুটি মামলাও করা হয়েছে।”তিনি বলেন, কোন অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

বিশেষ সতকর্তা, পাস-পারমিট বন্ধ

সুন্দরবনে বারবার আগুন লাগার ঘটনায় বনের চাঁদপাই রেঞ্জ জুড়ে ‘বিশেষ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। বনজীবী ও সাধারণের প্রবেশ সীমিত করে বৃহস্পতিবার থেকে এই রেঞ্জে প্রবেশের পাস-পারমিট দেওয়া সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে।

জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, “বিশেষ সতর্কতার অংশ হিসেবে চাঁদপাই রেঞ্জের অন্তর্গত সব এলাকায় জেলে, বাওয়ালী, মৌয়াল এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িক এ নিষেধাজ্ঞা ও বিশেষ সতর্কতা জারি থাকবে।”

এদিকে সুন্দরবনে বার বার আগুন লাগার কারণ খুঁজে বের করতে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

ওই কমিটির সচিব বন সংরক্ষক (সিএফ) জহির উদ্দিন আহমেদ জানান, “সুন্দরবনে বার বার আগুন লাগার কারণ ও আগুনে বনভূমির ক্ষয়ক্ষতি হিসাব করে এই কমিটি আগামী ১০ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।”

এর আগেও বুধবারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে সহকারী বন সংরক্ষক বেলায়েত হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

মধু আহরণকারীদের দুষলেন মন্ত্রী

এদিকে সুন্দরবনে বারবার আগুন লাগার জন্য মধু আহরণকারীসহ অন্যান্য বনজীবীদের দুষছে সরকার। সুন্দরবনের স্বার্থেই তাদের নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বেনারকে বলেন, “এখন মধু আহরণের সময়। আর মধু আহরণ করতে গিয়ে মৌমাছি তাড়াতে আগুন জ্বালাতে হয়। তা ছাড়া প্রচন্ড তাপদাহের কারণে বনের ঝরা পাতাগুলো আরো বেশি শুষ্ক হয়ে আছে। মৌয়াল বা বাওয়ালীদের জ্বালানো আগুনই বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটাচ্ছে।”

“সুন্দরবন রক্ষায় প্রয়োজনে মধু সংগ্রহ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পাশাপাশি মধু সংগ্রহকারীদের সুন্দরবন রক্ষার বিষয়ে সচেতন করার কথাও ভাবছে সরকার,” জানান মন্ত্রী।

সুন্দরবন রক্ষা করতে হবে

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বেনারকে বলেন, “এক মাসে ৪ বার আগুন লাগার ঘটনা কোনভাবেই স্বাভাবিক নয়। এটা সুন্দরবনকে ধ্বংসের চক্রান্ত হতে পারে।”

তিনি বলেন, “সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন সুরক্ষায় এখন থেকেই সকলকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে সুন্দরবন বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।”

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।