ফটোসাংবাদিক কাজলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অভিযোগপত্র

জেসমিন পাপড়ি
ঢাকা
2021-09-07
Share
ফটোসাংবাদিক কাজলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অভিযোগপত্র ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সহকর্মীদের সাথে গল্প করছেন ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল (বামে বসা)। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১।
[শরীফ খিয়াম/বেনারনিউজ]

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আগামী ২০ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে ঢাকার একটি আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এই আদেশ দেন, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাজলের আইনজীবী জাহিদুর রহমান।

“রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় করা এই মামলায় সাংবাদিক শফিকুল ইসলামকে একমাত্র অভিযুক্ত করে সম্প্রতি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ,” মঙ্গলবার বেনারকে জানান জাহিদুর রহমান।

মানব জমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীসহ ওই মামলার এজাহারে নাম থাকা বাকি ৩১ আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি জানান, কাজলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মোট তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হাজারীবাগ থানায় করা মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আদালত পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করে।

“এর আগে উচ্চ আদালত থেকে অভিযোগপত্র দেওয়া পর্যন্ত সময়ের জন্য কাজল জামিন পেয়েছিলেন। মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত,” বেনারকে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম।

সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলে বেনারকে জানান তাঁর ছেলে মনোরম পলক। তিনি এখন সুস্থ আছেন বলেও জানান তিনি।

যুব মহিলা লীগের নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার পাঁচতারকা হোটেলকেন্দ্রিক অসামাজিক কার্যক্রমে জড়িতদের নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে গত বছরের ৯ মার্চ ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা করেন মাগুরা-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর। মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়।

একই ঘটনায় ১০ মার্চ হাজারীবাগ থানায় আরেকটি মামলা করেন ওসমান আরা বেলী। এরপর ১১ মার্চ রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর থানায় আরেকটি মামলা করেন যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আরেক সদস্য সুমাইয়া চৌধুরী বন্যা। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এ তিন মামলাতেই আসামির তালিকায় নাম ছিল কাজলের।

শেরেবাংলানগর থানায় করা মামলার অভিযোগপত্রে একমাত্র কাজলকে আসামি করে এজাহারের বাকি ৩১ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে পুলিশ। 

প্রথম মামলা হওয়ার পরদিন গত ১০ মার্চ বকশিবাজারের বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন সাংবাদিক কাজল। পরদিন কাজলের স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসী চকবাজার থানায় একটি জিডি করেন।

এরপর ১৮ মার্চ কাজলের সন্ধান চেয়ে চেয়ে চকবাজার থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলাও করেন তাঁর ছেলে মনোরম পলক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে লেখালেখির কারণে অজ্ঞাতনামা কেউ সাংবাদিক কাজলকে অপহরণ করেছে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।

দৈনিক ‘পক্ষকাল’ নামের একটি পাক্ষিক পত্রিকার সম্পাদনা করতেন শফিকুল ইসলাম কাজল। একসময় তিনি কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে ফটো সাংবাদিক হিসেবেও কাজ করেছেন। নিখোঁজের পরে কাজলের সন্ধান দাবিতে তাঁর স্বজন ও সহকর্মীদের পাশাপাশি সোচ্চার হয় দেশি বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা।

নিখোঁজের প্রায় দুই মাস পর গত বছরের ২ মে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত থেকে কাজলকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয়।

যশোর থেকে ঢাকায় আনার পর গত বছরের ২৩ জুন সাংবাদিক কাজলকে শেরেবাংলা নগর থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ভার্চুয়াল আদালতে তোলা হয়। পরে হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানার মামলাতেও কাজলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাঁকে রিমান্ডে নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

একাধিকবার নিম্ন আদালতে জামিন আবেদন নামঞ্জুর হবার পর উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে দীর্ঘ সাত মাস জেলে কাটিয়ে ২৫ ডিসেম্বর ছাড়া পান কাজল।

মন্তব্য (0)

সব মন্তব্য দেখুন.

মন্তব্য করুন

নিচের ঘরে আপনার মন্তব্য লিখুন। মন্তব্য করার সাথে সাথে তা প্রকাশ হয় না। একজন মডারেটর অনুমোদন দেবার পর মন্তব্য প্রকাশিত হয়। বেনারনিউজের নীতিমালা অনুসারে প্রয়োজানে মন্তব্য সম্পাদনা হতে পারে। প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য বেনারনিউজ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয়বস্তুর সাথে প্রাসঙ্গিক থাকুন।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন