ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার ৩৩ বাংলাদেশিকে ফেরত আনা হবে

জেসমিন পাপড়ি
ঢাকা
2021-05-19
Share
ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার ৩৩ বাংলাদেশিকে ফেরত আনা হবে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে যাবার চেষ্টাকালে স্প্যানিশ এনজিও ওপেন আর্মস এর জাহাজে উদ্ধার হওয়া অন্যদের সাথে কয়েকজন বাংলাদেশি অভিবাসী। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২০।
[এপি]

ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া উপকূল থেকে উদ্ধার ৩৩ বাংলাদেশি তিউনিশিয়ার আশ্রয় শিবিরে রয়েছেন বলে বেনারকে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ।

ওই ঘটনায় নিখোঁজ আরো অন্তত ৫০ জনের “জাতীয়তা সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই,” বলে জানান তিনি।

উদ্ধার বাংলাদেশিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে লিবিয়া থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা তিউনিশিয়ায় যাচ্ছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তাঁদের সাথে কথা বলার পর জানা যাবে নিখোঁজদের মধ্যে কেউ বাংলাদেশি ছিলেন কি না।

উদ্ধারকৃত বাংলাদেশিদের তিউনিসিয়ায় করোনাভাইরাস পরীক্ষা ও কোয়ারেন্টিন শেষে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় দেশে ফেরত আনা হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে গত ১৭ মে ভূমধ্যসাগর থেকে আরো ৫২ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয় জানিয়ে ইমরান আহমদ বলেন, “এই নিয়ে গত তিন দিনে ৮৫ জন বাংলাদেশিকে ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

“সরকারিভাবে লিবিয়ায় শ্রমিক পাঠানো বন্ধ আছে। সুতরাং যারা গেছেন তাঁরা নিজের রিস্কে গেছেন। তা ছাড়া তারা কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমেও যাননি। সম্ভবত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে গেছেন। তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে,” বলেন তিনি। 

লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম বিষয়ক কাউন্সিলর আশরাফুল ইসলাম বেনারকে বলেন, “মঙ্গলবার উদ্ধার হওয়া ৩৩ বাংলাদেশিকে আন্তর্জাতিক সংস্থা রেড ক্রিসেন্ট ও আইওএমের আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা হবে।”

“এ ছাড়া গত ১৭ মে উদ্ধার হওয়া ৫২ বাংলাদেশি বর্তমানে তিউনিশিয়ার আশ্রয়কেন্দ্রে কোয়ারেন্টিনে আছেন। কোয়ারেন্টিন শেষ হলে তাঁদের দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।

তিনি জানান, “ওই দিন কোনো নৌকা ডুবি ঘটেনি। তবে ভূমধ্যসাগরে ভাসমান একটি নৌকা থেকে তিউনিশিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অন্তত ১০০ জনের মতো অভিবাসীকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে ৫২ জন বাংলাদেশি বলে রেড ক্রিসেন্টের মাধ্যমে আমরা জেনেছি।” 

উদ্ধার এসব বাংলাদেশির সাথে দেখা করার জন্য তিউনিশিয়া সরকারের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসানের মতে, জেনে বুঝে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা ৫-১০ লাখ টাকা খরচ করে অবৈধভাবে ইউরোপে যেতে চান, এইসব দুর্ঘটনার “দায় প্রথমত তাদেরই।”

“দ্বিতীয় দায় সরকারের। সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে এই ঘটনাগুলো ঘটে। তখনই আইন-শৃঙ্খলারক্ষা বাহিনী কিছু অভিযান চালায়। কিন্তু সারা বছরজুড়ে ডাটাবেজ আপডেট করে এসব ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে অভিযান চালানো হয় না,” বলেন তিনি। 

“লিবিয়াকে ট্রানজিট জোন বানিয়ে আন্তর্জাতিক পাচারকারীরা বহুদিন সক্রিয়,” জানিয়ে শরিফুল হাসান বলেন, “এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে একসাথে কাজ করতে হবে।”

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৩৬০ জন বাংলাদেশি অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাওয়ার সময় আটক হয়েছেন।

জাতিসংঘের হিসেবে, গত বছর ভূমধ্যসাগরে অন্তত ১২শ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার পথে মারা গেছেন পথে পাঁচ শতাধিক অভিবাসী। 

তিউনিশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, ওই অভিবাসীরা ভূমধ্যসাগর হয়ে লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাবার সময় এই নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।

অভিবাসীদের নৌকাটি গত রোববার লিবিয়ার বন্দর জুওয়ারা থেকে ৯০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে সাগরপথে ইউরোপের উদ্দেশে রওনা দিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে।

উদ্ধার হওয়া জীবিতদের সংখ্যা ৩৩ জন, এদের সবাই বাংলাদেশি বলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মুখপাত্র ফ্লাভিও ডি জিয়াকমোর বরাতে জানায় এএফপি।

এর আগে ২০১৯ সালের মে মাসে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাবার পথে সাগরে ডুবে মারা যান অন্তত ৪০ বাংলাদেশি।

মন্তব্য (0)

সব মন্তব্য দেখুন.

মন্তব্য করুন

নিচের ঘরে আপনার মন্তব্য লিখুন। মন্তব্য করার সাথে সাথে তা প্রকাশ হয় না। একজন মডারেটর অনুমোদন দেবার পর মন্তব্য প্রকাশিত হয়। বেনারনিউজের নীতিমালা অনুসারে প্রয়োজানে মন্তব্য সম্পাদনা হতে পারে। প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য বেনারনিউজ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয়বস্তুর সাথে প্রাসঙ্গিক থাকুন।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন