বিএনপির সমাবেশের আগে-পরে পরিবহন ধর্মঘট

আহম্মদ ফয়েজ
2022.10.28
ঢাকা
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
বিএনপির সমাবেশের আগে-পরে পরিবহন ধর্মঘট রংপুরে ৩৬ ঘণ্টার ধর্মঘটে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলার সব পরিবহন বন্ধ থাকায় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে কোনো গাড়ি না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন যাত্রীরা। ২৮ অক্টোবর ২০২২ ।
[বেনারনিউজ]

সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিসহ বেশ কিছু দাবিতে দেশের বড়ো শহরগুলোতে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির চলমান সমাবেশে নানা রকম বাধার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবহন ধর্মঘট। প্রতিটি সমাবেশের আগে একদিন বা দুদিনের জন্য ধর্মঘট ডাকছে স্থানীয় পরিবহন মালিকদের সংগঠনগুলো।

ধর্মঘটের ফলে বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশে পৌঁছাতে আশপাশের জেলার বিএনপি নেতাকর্মীরা যেমন বাধার মুখে পড়ছেন, তেমনই পরিবহন সংকটের ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় নাগরিকেরা।

সর্বশেষ বুধবার রাতে জরুরি বৈঠক ডেকে রংপুরে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের দুদিন আগে পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে জেলার মোটর মালিক সমিতি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি একেএম মোজাম্মেল হক বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে জানান, মহাসড়কে অবৈধ তিন চাকার যান চলাচল বন্ধের দাবিতে শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর জেলার সব রুটে বাস, মিনিবাস, ট্রাক এবং মাইক্রোবাস চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শনিবার বিএনপির সমাবেশ থাকার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে বিএনপির সমাবেশের কোনো সম্পর্ক নেই।”

এর আগে বুধবার একই কায়দায় ধর্মঘট ডেকেছে বরিশাল বাস মালিক সমিতি। মহাসড়কে তিন চাকার অবৈধ যান ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল বন্ধের দাবিতে আগামী ৪-৫ নভেম্বর বরিশাল থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপ।

যদিও প্রায় এক মাস আগেই বিএনপি ঘোষণা দিয়েছে যে, দলটি আগামী ৫ নভেম্বর বরিশাল শহরে গণসমাবেশ করবে।

এর আগে গত ২২ অক্টোবর খুলনায় বিএনপির সমাবেশের আগের দিন ও সমাবেশের দিন ধর্মঘট ডাকে স্থানীয় পরিবহন সংগঠন।

খুলনা জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস মালিক সমিতির দাবি ছিল, সড়ক ও মহাসড়কে অবৈধভাবে নছিমন, করিমন, মাহিন্দ্রা, ইজিবাইক ও বিআরটিসির বাস চলাচল বন্ধ করতে হবে।

সড়ক পরিবহন বন্ধ থাকলেও খুলনার সমাবেশে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে মানুষের অংশগ্রহণ কমাতে সমাবেশের দিন এক পর্যায়ে নৌ ও ট্রেন চলাচলও কোনো ব্যাখ্যা ছাড়া বন্ধ হয়ে যায়।

১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত বিএনপির সমাবেশের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মঘট না ডাকলেও পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়।

আগের রাতেই নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থলে

বিএনপির ডাকা গণসমাবেশের আগে স্থানীয় নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশের টহল এবং পথে পথে ক্ষমতাসীন নেতাকর্মীদের বাধা ও হামলা এড়াতে সাম্প্রতিক সমাবেশগুলোতে পার্শ্ববর্তী জেলার বিপুলসংখ্যক বিএনপি নেতা-কর্মী সমাবেশের আগের রাতেই সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়েছেন।

গত ১০ অক্টোবর চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত কর্মসূচির প্রথম গণসমাবেশে যাওয়ার পথে নেতাকর্মীরা বাধার মুখে পড়েন। তাই ময়মনসিংহে আগের রাতেই সমাবেশস্থল ভরে যায় বিএনপি নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে। একই দৃশ্য দেখা গেছে খুলনায় এবং সর্বশেষ রংপুরে।

বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন বেনারকে বলেন, “পুলিশি হয়রানিসহ পরিবহন ধর্মঘটের আগের দিনই অনেক জেলা থেকে নেতাকর্মীরা রংপুরে চলে এসেছেন। উত্তরের সীমান্ত জেলার নেতাকর্মীরা ধর্মঘটের কারণে রংপুরে ঢুকতে না পেরে খোলা মাঠে ত্রিপল টাঙিয়ে রাত্রিযাপন করেছেন।”

তিনি জানান, রংপুর মোটর মালিক সমিতির ডাকা ধর্মঘটে বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও ট্রেন, প্রাইভেট কার, মোটর সাইকেল এমনকি পায়ে হেঁটেও সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়েছেন নেতাকর্মীরা।

ওদের ব্যবহার করছে সরকার: ফখরুল

গণসমাবেশের আগে পরিবহন মালিকদের ধর্মঘট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেনারকে বলেন, “আমাদের সমাবেশে বিপুল উপস্থিতি দেখে সরকার ভয় পেয়ে পরিবহন মালিকদের সংগঠনগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে।”

তিনি বলেন, “এই ধরনের নোংরা রাজনীতি দেশের মানুষ বুঝে।”

অপরদিকে বৃহস্পতিবার আলাদা দুটো অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাসান মাহমুদ বলেছেন, তাঁদের ধারণা ২০১৪ সালে বিএনপির কর্মসূচিতে যেভাবে জ্বালাও পোড়াও হয়েছে সেরকম সহিংসতার ভয়ে পরিবহন মালিকরা বিএনপির সমাবেশের সময় পরিবহন চালানো থেকে বিরত থাকছেন।

বিএনপির সমাবেশে কোনো বাধা দেয়া হয় না, এমন দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “তাদের সভা-সমিতি করতে আমরা কোনো ধরনের বাধা দিচ্ছি না। যেখানে করতে চাচ্ছে, সেখানেই হচ্ছে।”

বিএনপির সমাবেশে পরিবহন ধর্মঘটসহ নানা রকম হয়রানির মাধ্যমে যেভাবে বাধা প্রদান করা হচ্ছে, সেটিকে সংবিধান পরিপন্থী মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেন, “সংবিধানের ৩৭ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা আছে ‘জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ-সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হইবার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে’, অথচ যেভাবে এখন সভা সমাবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে তা এই অনুচ্ছেদের সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।”

এবারও মানুষ আ. লীগকে ভোট দেবে: প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৪ ডিসেম্বর। গতকাল শুক্রবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তা ছাড়া সম্মেলনের আগে ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে পলো গ্রাউন্ডে সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৮ অক্টোবর চট্টগ্রামে একই স্থানে সমাবেশ করেছিল বিএনপি।

শুক্রবার কার্যনির্বাহী সভার শুরুতে সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ওপর মানুষের আস্থা রয়েছে বলেই তিনবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে, এবারও দেবে। কিন্তু যারা সন্ত্রাসী, খুনি, জনগণের অর্থ লুটপাটকারী, বোমা-গ্রেনেড হামলাকারী ও অর্থ পাচারকারী; জনগণ তাদের বিশ্বাস করে না, ভোটও দেবে না।’

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে তিন বছর পরপর সম্মেলন করার কথা। প্রতিটি সম্মেলনেই শেখ হাসিনাকে নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন কাউন্সিলররা।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।