খালেদাকে জেলে পাঠানোর হুমকি, জবাবে গণঅভ্যুত্থানের পাল্টা হুমকি বিএনপির

কামরান রেজা চৌধুরী
2022.11.04
ঢাকা
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
খালেদাকে জেলে পাঠানোর হুমকি, জবাবে গণঅভ্যুত্থানের পাল্টা হুমকি বিএনপির বরিশাল মহানগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে শনিবার অনুষ্ঠিতব্য বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা-উপজেলার নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার থেকে সমাবেশস্থলে জমায়েত হতে শুরু করেছেন। ছবিটি শুক্রবার বিকেলে তোলা। ৪ নভেম্বর ২০২২।
[বেনারনিউজ]

বেশি বাড়াবাড়ি করলে খালেদা জিয়াকে আবার জেলে পাঠিয়ে দেয়া হবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্তব্যের পরদিনই ক্ষমতাসীন দলকে হুঁশিয়ার করে বিএনপি বলেছে, দেশে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণ অভ্যুত্থান ঘটবে। তাই সময় থাকতে বিএনপির দাবি মেনে সরকারকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি। 

শনিবার বিএনপির নির্ধারিত বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশের আগের দিন শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এদিকে সমাবেশ সামনে রেখে পার্শ্ববর্তী সব জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বরিশাল। ইতিমধ্যে দুই দিনের বাস ও লঞ্চ ধর্মঘট ডেকেছে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও পরিবহন সংগঠনগুলো। এই ধর্মঘটের পেছনে সরকারের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি, যদিও সরকারের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার জেলা হত্যা দিবসের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির উদ্দেশ্যে বলেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে খালেদা জিয়াকে আবার জেলখানায় পাঠিয়ে দেয়া হবে।

এর প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, যখন দেশে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন শুরু হয়েছে, যখন মানুষ তাদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করছে, যখন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে-তখন এমন বক্তব্য দুঃখজনক।

“খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে কোনো লাভ হবে না। দেশের মানুষ বিএনপির নেতৃত্বে আজ আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে। আমাদের নেত্রীকে জেলে পাঠানোর ভয় দেখিয়ে এই আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না,” বলেন ফখরুল।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে গণ অভ্যুত্থান ঘটবে। তাই সময় থাকতে সরকারের উচিত পদত্যাগ করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের পথ সুগম করা।”

তবে বিএনপির এই হুঁশিয়ারিকে তোয়াক্কা করছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান শুক্রবার বেনারকে বলেন, “বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত। উনাকে সরকার সাজা স্থগিত করে কারাগারের পরিবর্তে বাসায় অবস্থানের অনুমতি দিয়েছে। আর এখন তারা আমাদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক কাজ করছে, কথা বলছে। সে কারণেই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে খালেদা জিয়াকে আবার কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হবে।”

“বিএনপি সমাবেশ করছে, তাতে আমাদের কোনো অসুবিধা নেই,” জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলন হবে ২৪ ডিসেম্বর। তার আগে চট্টগ্রামে মহাসমাবেশ করা হবে। আমরা দেখব বিএনপি কত মানুষের সমাগম ঘটাতে পারে। আর আমরা কতটা পারি।”

আগামী দিনগুলো সহিংস হবে’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গত মাস থেকে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে ব্যাপক জনসমাগম দলটিকে সরকার বিরোধী আন্দোলনে আশাবাদী করে তুলেছে। বিশেষ করে পরিবহন ধর্মঘট সত্ত্বেও হাজার হাজার মানুষ সমাবেশের আগের দিন থেকে সভাস্থলে রাত কাটানোর দৃশ্য তাদের উজ্জীবিত করেছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নিজাম উদ্দিন আহমেদ শুক্রবার বেনারকে বলেন, “আমার মনে হয় বিএনপির সমাবেশের আগে যানবাহন বন্ধ করার যে উদ্যোগ, সেটি সঠিক হচ্ছে না। এর মাধ্যমে সরকার বিএনপির গুরুত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে।”

তিনি বলেন, “আমরা যা দেখছি, আগামীকাল বরিশালে সমাবেশের আগেই জনসভাস্থলে হাজার হাজার মানুষ অবস্থান নিয়ে সেখানে দিনরাত কাটাচ্ছে। যানবাহন চলাচলে বাধা না দিলে হয়তো এতসংখ্যক মানুষ সেখানে যেত না।”

“এই জনসমাগম বৃদ্ধি আওয়ামী লীগের জন্য একটি রাজনৈতিক ক্ষতি বলা যায়, যদিও আওয়ামী লীগ রাস্তার রাজনীতিতে বিএনপির চেয়ে শক্তিশালী,” বলেন অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, “বিএনপি গণ অভ্যুত্থান ঘটাতে পারবে কি না তা সময় বলে দেবে। বিষয়টি ততটা সহজ নয়। তবে এটি মোটামুটি নিশ্চিত, আগামী দিনগুলো আমাদের জন্য সহিংস হবে।”

প্রসঙ্গত, বিএনপি নেতারা বলছেন, বিভাগীয় সমাবেশ শেষে ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ থেকে সরকারকে আল্টিমেটাম দেবেন তাঁরা।

বরিশালে বিএনপিআগাম অবস্থান

শনিবারের বিভাগীয় জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে বরিশাল মহানগর এখন বিএনপি নেতাকর্মীদের দখলে। শুক্রবার থেকেই সমাবেশস্থল বেলস পার্কে অবস্থান নিয়ে রান্নার আয়োজন করে রাত কাটাচ্ছেন হাজার হাজার নেতাকর্মী।

স্থানীয় সাংবাদিক মো. মোফাজ্জেল বেনারকে বলেন, “জেলায় বাস, লঞ্চসহ সকল প্রকার যানবাহন বন্ধ থাকার পরও ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ভোলা ও বরগুনা জেলা থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী বরিশাল এসে অবস্থান নিয়েছেন।

“সমাবেশস্থল প্রায় পরিপূর্ণ। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাধা দেয়া হচ্ছে না। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ইতোমধ্যে বরিশালে পৌঁছেছেন। কাল জনসমুদ্রে পরিণত হবে বরিশালের এই সমাবেশ,” শুক্রবার বেনারকে বলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের প্রধান জহির উদ্দিন স্বপন।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।