বিএনপিকে সংলাপে আমন্ত্রণ, স্থবির রাজনীতিতে আকস্মিক নড়চড়

ঢাকা থেকে শাহরিয়ার শরীফ
2016.12.12
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বৈঠক। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বৈঠক। নভেম্বর ১৯, ২০১৩।
স্টার মেইল

নির্বাচন কমিশন গঠনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের স্থবির রাজনীতিতে আকস্মিক নড়চড় শুরু হয়েছে। সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির সঙ্গে ১৮ ডিসেম্বর আলোচনার মধ‌্য দিয়ে রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

আইনজ্ঞ ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে সংবিধানে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা থাকলেও গত সাড়ে চার দশকে কোনো সরকারই সেদিকে হাঁটেনি। রাষ্ট্রপতির অনুসন্ধান কমিটি (সার্চ কমিটি) গঠন ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের নামে মূলত সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী এই কমিশন গঠন হয়েছে।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। নতুন ইসির অধীনেই পরবর্তী সংসদ নির্বাচন হবে। ওই নির্বাচনে বিএনপিকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ।

তার আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি ঘিরে আলোচনা–সমালোচনা হচ্ছে। বিএনপি নির্বাচন কমিশন গঠনের একটি রূপরেখা তৈরি করে তা রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা গত বুধবার জাতীয় সংসদে বলেছেন, রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত তাঁরা মেনে নেবেন।

বড় দুই দলের এই অবস্থানের পর রাষ্ট্রপতির সংলাপে যোগ দিতে সোমবার বিরোধী দল বিএনপিকে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নাম পাঠাতে বলা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দলটিকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিনিধি দলের নামের তালিকা বঙ্গভবনে পাঠাতে বলা হয়।

গত ৬ ডিসেম্বর দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সহকারী সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মা‌ইনুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে খালেদা জিয়ার দেওয়া নির্বাচন কমিশন গঠন ও শক্তিশালীকরণের প্রস্তাব দিয়ে আসেন।

“পাঁচটি রাজনৈতিক দলকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য নিবন্ধিত দলগুলোকে চিঠি পাঠানো হবে।”-বেনারকে জানান রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়;

“গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন কমিশনার নিয়োগের বিষয়ে ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।”

“যেহেতু নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শীঘ্রই উত্তীর্ণ হচ্ছে, সেহেতু বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত গ্রহণ সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশন গঠনে মাহামান্য রাষ্ট্রপতি আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। সেই লক্ষ্যে আগামী ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ খ্রিঃ বিকেল ৪.৩০ টায় বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আপনার দলের নেতৃবৃন্দের সাথে মত-বিনিময়ের সাগ্রহ সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।”

বিশিষ্ট নাগরিকেরা বলছেন, বর্তমান নির্বাচন কমি​শনও একটি অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে গঠিত হয়, যারা দু’একটি নির্বাচন ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আগামী কমিশনও অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে গঠন হবে—এমন বক্তব্য দিচ্ছে সরকার।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন, কীসের ভিত্তিতে এই অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হবে? এই কমিটি গঠনে কোনো আইন বা বিধি নেই। তাঁদের মতে, প্রজ্ঞাপন দিয়ে আইনের উদ্দেশ্য পূরণ করা যায় না।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বেনারকে বলেন, “সাংবিধানিক নির্দেশনা অনুযায়ী কমিশন গঠনে যথাযথ আইন প্রণয়ন ও সঠিক অনুসন্ধান কমিটি গঠন করতে হবে।”

তাঁর মতে, “সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনে নতুন আইন প্রণয়নের কোনো বিকল্প নেই।”

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা বেনারকে বলেন, সংবিধানে বলা আছে কমিশন গঠনের জন্য আইন করতে হবে। চল্লিশ বছরের বেশি সময় ধরে কোনো সরকার সেটা মানছে না। এই না মানাটা সঠিক কোনো পদ্ধতি হতে পারে না।

ড. শামসুল হুদা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে থাকার সময়ে দুই দফায় সরকারের কাছে এই আইন করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সরকার তা আমলে নেয়নি।

“দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা বহুলাংশে ভেঙে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।”- বেনারকে জানান ড. মজুমদার ।

তাঁর মতে, “এর পাশাপাশি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা গেলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ সুগম হবে।”

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।