গুলশান-বারিধারায় জায়গা সংকট, পূর্বাচলে কূটনৈতিক জোন করবে সরকার

জেসমিন পাপড়ি
2021.01.21
ঢাকা
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
গুলশান-বারিধারায় জায়গা সংকট, পূর্বাচলে কূটনৈতিক জোন করবে সরকার রাজধানীর উপকণ্ঠে নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার সোয়া ছয় হাজার একরের বেশি জায়গা জুড়ে পরিকল্পিত আবাসনের লক্ষ্য নিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে পূর্বাচল শহর প্রকল্প। ২৬ ডিসেম্বর ২০২০।
[বেনারনিউজ]

রাজধানীর গুলশান-বারিধারায় জমি সংকটের কারণে নতুন শহর পূর্বাচলে কূটনৈতিক জোন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “দূতাবাস স্থাপনের জন্য নতুন নতুন চাহিদার বিপরীতে ঢাকার গুলশান ও বারিধারা কূটনৈতিক জোনে পর্যাপ্ত জমির সংকুলান করা খুব কঠিন। এ অবস্থায় পূর্বাচলে দূতাবাস স্থাপনের জন্য নির্ধারিত কূটনৈতিক জোন গড়ে তোলা প্রয়োজন হতে পারে।”

বারিধারা কূটনৈতিক এলাকায় বর্তমানে কয়েকটি দূতাবাস ও হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জমির চাহিদা থাকলেও সেখানে জমির অপ্রতুলতা একটি বড়ো বিষয় জানিয়ে রাজউকের বরাতে মন্ত্রী বলেন, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ইতোমধ্যেই একটি কূটনৈতিক জোন করা হয়েছে। 

পূর্বাচলে কূটনৈতিক জোন কবে নাগাদ শুরু হবে সে বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো সময়সীমা না জানালেও সেখানে কূটনৈতিক পল্লি স্থাপন করতে চাইলে বেশ কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছে রাজউক সূত্র। 

রাজউকের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর উপকণ্ঠে নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার সোয়া ছয় হাজার একরের বেশি জায়গা জুড়ে শীতলক্ষ্যা ও বালু নদী ঘিরে ১৯৯৫ সালে হাতে নেওয়া পূর্বাচল প্রকল্পের এখন পর্যন্ত ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। 

বাণিজ্যিক, শিল্প, প্রাতিষ্ঠানিক ও আবাসিক মিলে মোট ৩০ হাজার প্লট রয়েছে প্রকল্পটিতে। 

বর্তমানে বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়ার ফলে অনেক দেশ যেমন নতুন দূতাবাস করতে চায় তেমনি অনেক দেশ তাঁদের দূতাবাসের পরিধি বাড়াতে আগ্রহী বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার।

তাঁর মতে, বিদ্যমান কূটনৈতিক জোনে জায়গা না থাকলে নতুন জায়গা দিতে হবে, “তবে নিরাপত্তার বিষয়ে ঢিলেমি দেওয়া যাবে না।”

গুলশান-বারিধারার ডিপ্লোম্যাটিক জোনের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের একটা আলাদা ইউনিট আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পূর্বাচলে কূটনৈতিক জোন করলে সেখানকার জন্যও এমন একটি ডেডিকেটেড ইউনিট রাখতে হবে।”

২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর কূটনৈতিক জোন হিসেবে পরিচিত এলাকা গুলশান-বারিধারার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করতে নানা উদ্যোগ নেয় সরকার। 

ওই হামলার পরে নিরাপত্তার স্বার্থে কূটনৈতিক জোনের বিভিন্ন মোড়ে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছিল। এ ছাড়া চলাফেরায় কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি অনেক সড়কে গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়। 

“পূর্বাচলে সুন্দর, নিরাপদ ও নির্মল পরিবেশের কূটনৈতিক জোন সৃষ্টি করতে পারলে অনেক দূতাবাস নিজেরাই গুলশান-বারিধারা থেকে সেখানে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করতে পারে,” মনে করেন নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুর রব খান।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন