গাজীপুর সিটি নির্বাচন স্থগিত: সরকারকে দোষারোপ করছে বিরোধীরা

কামরান রেজা চৌধুরী
ঢাকা
2018-05-07
Share
গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের নির্বাচনী প্রচারণা। গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের নির্বাচনী প্রচারণা। ৫ মে ২০১৮।
বেনারনিউজ

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করে হাই কোর্ট আদেশ দেওয়ার এক দিন পর সোমবার থেকে সেখানে সকল নির্বাচনী প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচন স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দলীয় প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বেনারকে বলেছেন, ‍তিনিও আগামীকাল নির্বাচন স্থগিত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হেরে যাওয়ার ভয়ে আদালতকে ব্যবহার করে গাজীপুর সিটি নির্বাচন নির্বাচন স্থগিত করেছে সরকার।

তবে, সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনকে ভয় করে না।

এ বছরের ১৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে। মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রের পদটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

সোমবার নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার কমিশন অফিসে সাংবাদিকদের জানান, আদালত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছে। তাই সেখানে সকল নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিতাদেশের লিখিত আদেশ এখনো নির্বাচন কমিশনের হাতে এসে পৌঁছায়নি। নির্বাচন স্থগিত সংক্রান্ত আদালতের আদেশ হাতে পেলে আপিল করা হবে কি না সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।

আগামী ১৫ মে গাজীপুর সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ওই নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর একইদিন অনুষ্ঠিতব্য খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের এক সিদ্ধান্তের কারণে আদালতে চ্যালেঞ্জের ‍মুখে পড়ে গাজীপুর সিটি নির্বাচন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের ছয় মৌজাকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সরকারি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রোববার হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম আজহারুল ইসলাম।

রিট আবেদন শুনানি শেষে রোববার গাজীপুর সিটি নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করে হাই কোর্ট। তিনি তাঁর আবেদনে বলেন, শিমুলিয়া ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত।

তিনি বেনারকে বলেন, তার এলাকাকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো যুক্তি নেই।

বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন আজ (সোমবার) আমরা গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছি। “আজ শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় শুনানি করারও সাহস তাদের (আদালতের) নেই।”

তিনি বলেন, তারা (আদালত) যে সরকারের নির্দেশে চলে এটি তার প্রমাণ।

জয়নুল আবেদীন বলেন, “সরকারের বিভিন্ন এজেন্সি রয়েছে। তারা সরকারকে জানিয়েছে যে জনগণ ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে এবং তাদের পরাজয় নিশ্চিত তখন তারা পেছন থেকে নির্বাচন স্থগিত করে দিয়েছে।”

সোমবার সকালে আদালত প্রাঙ্গণে আসেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “যে কোনো প্রক্রিয়ায় নির্বাচনটা যেন হয়। গাজীপুর সিটি উন্নয়নের স্বার্থে আমরা নির্বাচন চাই। আমরা গণতন্ত্র চর্চা করতে চাই। গাজীপুর সিটির নির্বাচনের স্বার্থে আমি সকলের সহযোগিতা চাই। এ জন্য আমি এসেছি, হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করব।”

তিনি বেনারকে বলেন, “আমি চাই শিডিউল অনুযায়ী নির্বাচনটা হোক। আমরা হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আবেদনের প্রক্রিয়া চলছে।”

তিনি বলেন, “আমি ও আমার দল নির্বাচনকে ভয় করে না। নির্বাচন ভয় করলে তো আর আদালতে আপিল করতে আসতাম না।”

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, হেরে যাওয়ার ভয়ে গাজীপুর সিটি নির্বাচন স্থগিত করেছে সরকার। তিনি বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনও স্থগিত করা হতে পারে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সোমবার বেনারকে বলেন, বিএনপির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আদালত স্বাধীনভাবে তার কাজ করে। এখানে সরকারের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ নেই।

মন্ত্রী বলেন, “সরকার কেন সিটি নির্বাচন স্থগিত করতে যাবে? আওয়ামী লীগ কখনো নির্বাচনকে ভয় করে না। কারণ, আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক দল।”

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন