২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক জঙ্গি গ্রেপ্তার

কামরান রেজা চৌধুরী
ঢাকা
2021-02-23
Share
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক জঙ্গি গ্রেপ্তার ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে জঙ্গি হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক মো. ইকবাল হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে র‍্যাব। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১।
[বেনারনিউজ]

প্রায় ১৭ বছর আগে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে জঙ্গি হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক মো. ইকবাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। 

র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান র‍্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। 

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ওই হামলা চালায় জঙ্গি সংগঠন হরকত-উল জিহাদ-বাংলাদেশের সদস্যরা। এর পর থেকে দেশে–বিদেশে পলাতক ছিলেন জাহাঙ্গীর ও সেলিম নামে পরিচিত ইকবাল।

২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে এক রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের ফাঁসি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন এবং ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেয় বিচারিক আদালত।

সংবাদ সম্মেলনে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল জানায় মুফতি হান্নানের নির্দেশে সে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে মঞ্চের দিকে গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছিল।” 

সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে রাজধানীর দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে ইকবালকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান র‌্যাবের মহাপরিচালক। 

তিনি জানান, ইকবাল ২০০৮ সালে পালিয়ে মালয়েশিয়া চলে যান। করোনা মহামারির মধ্যে গত বছরের শেষ দিকে সেখানে অবৈধ হয়ে পড়লে তাঁকে ঢাকায় ফেরত পাঠায় মালয়েশিয়া সরকার। বাংলাদেশে ফিরে ইকবাল আবার জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করতে শুরু করেন।

উচ্চমাধ্যমিক পাস ইকবালের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলায় বলে জানান তিনি।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও র‌্যাবের যৌথ প্রচেষ্টায় গ্রেপ্তার হন ইকবাল। 

র‌্যাব মহাপরিচালক জানান, স্কুল-কলেজে পড়ার সময় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন ইকবাল। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় ছিলেন তিনি। 

দেশে ফিরে ঝিনাইদহে আইএসডি ফোনসহ বিভিন্ন ব্যবসা শুরু করেন ইকবাল। ব্যবসার পাশাপাশি দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চলের সর্বহারা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।

র‌্যাব মহাপরিচালক জানান, ২০০১ সালে ইকবালের রাজনৈতিক চিন্তায় পরিবর্তন আসে এবং জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হন। ২০০৩ সালে হুজি নেতা মুফতি হান্নানের সান্নিধ্যে আসার পর থেকে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন ইকবাল। 

মুফতি হান্নানের পরিকল্পনায় ২০০০ সালের ২৯ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশস্থলে ৭৬ কেজি বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল। তবে সেই হত্যা প্রচেষ্টা সফল হয়নি। 

বিএনপি শাসনামলে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার মামলায় ফাঁসি দেয়া হয় হুজি-বি নেতা মুফতি হান্নানকে। তাঁর বাড়ি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জেলা গোপালগঞ্জে। 

র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, মুফতি হান্নান ও হুজি–বির শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতার সান্নিধ্যে এসেছে ইকবাল। ওই জঙ্গিদের সাথে বিভিন্ন গোপন বৈঠকেও অংশ নেয় সে। 

তিনি জানান, মুফতি হান্নানের নির্দেশেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সে অংশ নেয় এবং মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। 

ঘটনার পর থেকে ঝিনাইদহ, গাজীপুর ও সাভারে নিরাপত্তাকর্মী, শ্রমিক ও রিকশাচালকের ছদ্মবেশে দিন কাটান ইকবাল। ২০০৮ সালে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভেনিউয়ে একটি ট্রাকের ওপর সন্ত্রাস বিরোধী সভায় বক্তৃতা করছিলেন শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই দুপাশ থেকে ট্রাক লক্ষ্য করে আর্জেস গ্রেনেড ছুঁড়তে থাকে হুজি জঙ্গিরা।

ওই ঘটনায় প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ হানিফ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াসহ অন্যান্য নেতারা মানবঢাল তৈরি করে রক্ষা করেন শেখ হাসিনাকে।

হামলায় ঘটনাস্থলেই ২২ জন নিহত হন, পরে হাসপাতালে প্রাণ হারান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ আরেকজন।

দীর্ঘ তদন্তের পর ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর এই মামলার রায় ঘোষণা করে আদালত। মামলাটি এখন উচ্চ আদালতে চলমান।

২১ আগস্ট মামলা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল মঙ্গলবার বেনারকে বলেন, “ইকবাল ২১ আগস্ট হামলায় অংশ নেয়া হরকাতুল জিহাদের জঙ্গি। পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতেই বিচার হয়েছে, এখন থেকে তার সাজা শুরু হয়ে যাবে।” 

তিনি বলেন, “২১ আগস্ট হামলা মামলার রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছে আসামিরা। এই মামলা এখন উচ্চ আদালতে চলমান। ইকবাল চাইলে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবে।”

উচ্চ আদালত ইকবালের সাজা পরিবর্তন করার এখতিয়ার রাখে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য (0)

সব মন্তব্য দেখুন.

মন্তব্য করুন

নিচের ঘরে আপনার মন্তব্য লিখুন। মন্তব্য করার সাথে সাথে তা প্রকাশ হয় না। একজন মডারেটর অনুমোদন দেবার পর মন্তব্য প্রকাশিত হয়। বেনারনিউজের নীতিমালা অনুসারে প্রয়োজানে মন্তব্য সম্পাদনা হতে পারে। প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য বেনারনিউজ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয়বস্তুর সাথে প্রাসঙ্গিক থাকুন।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন