পল্টনে বোমা বিস্ফোরণ: নব্য জেএমবির ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রাপ্তি রহমান
ঢাকা
2020-09-11
Share
200911_Militancy_Story_1000.jpg রাজধানীর পল্টনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া নব্য জেএমবির চার সদস্যকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে পুলিশ। সেপ্টেম্বর ১০, ২০২০।
[সৌজন্যে: ঢাকা মহানগর পুলিশ]

রাজধানীর পল্টনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জঙ্গি গোষ্ঠী নব্য জেএমবির (জামায়াতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশ) আরও চার সন্দেহভাজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগ।

এর আগে ওই ঘটনায় নব্য জেএমবির আরো পঁচজনকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

“একটি বিশেষ টিম বৃহস্পতিবার রাতে উত্তরার আজমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চার জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে,” শুক্রবার বেনারকে বলেন সিটিটিসির উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম।

“সিলেট থেকে নব্য জেএমবির যে দলটিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, ঢাকায় গ্রেপ্তারকৃতরা তাদের হয়েই কাজ করছিল। পল্টনের বোমা হামলায় তাদের সম্পৃক্ততা ছিল,” বলেন সাইফুল।

এ নিয়ে ওই ঘটনায় নব্য জেএমবির মোট নয় সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হলো।

বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার চারজন হচ্ছেন মামুন আল মোজাহিদ ওরফে সুমন ওরফে আবু আবদুর রহমান, মোঃ আল আমিন ওরফে আবু জিয়াদ, মোঃ মোজাহিদুল ইসলাম ওরফে রোকন ওরফে আবু তারিক ও সারোয়ার হোসেন রাহাত।

এ সময় তাঁদের কাছ থেকে আটটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়।

তবে এই চারজন সুনির্দিষ্টভাবে কোন কোন ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত তা এখনো নিশ্চিত নয় জানিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, “রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর এ ব্যাপারে পরিষ্কারভাবে জানা সম্ভব হবে।”

গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে বলে বেনারকে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র মো. ওয়ালিদ হোসেন।

গত ২৪ জুলাই রাত সাড়ে নয়টার দিকে পুরানা পল্টন এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছিল। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বোমায় ব্যবহৃত ইলেকট্রিক টেপ, জিআই পাইপের কনটেইনার, সার্কিটের অংশ, তার, লোহার তৈরি বিয়ারিং ও বল, নাইন ভোল্ট ব্যাটারির অংশ বিশেষ উদ্ধার করে।

এরপরই পল্টন মডেল থানায় একটি মামলা রুজু হয়।

গত ১২ আগস্ট সিলেটে অভিযানের পরদিন ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সিটিটিসির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, নব্য জেএমবির সামরিক শাখার সদস্যরা আইএস-এর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ঈদুল আযহার আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

তিনি বলেন, “পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নব্য জেএমবির সদস্যরা ২৪ জুলাই ঢাকার পল্টনে পুলিশ চেকপোস্টের পাশে, গত ৩১ জুলাই নওগাঁ জেলার সাপাহার এলাকায় হিন্দু ধর্মালম্বিদের মন্দিরে বোমা হামলা করে। এছাড়া গত ২৩ জুলাই হযরত শাহজালাল (রহঃ) মাজার শরীফে আরেকটি হামলার পরিকল্পনা গ্রহণ করে।”

এর মধ্যে তারা পল্টন ও সাপাহারে বোমা বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হলেও পুলিশের কড়া নজরদারির কারণে সিলেটে ব্যর্থ হয় বলে জানান মনিরুল ইসলাম।

সিটিটিসি বলছে, সিলেট থেকে গ্রেপ্তার হওয়া এক জঙ্গির সাথে বৃহস্পতিবার যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তাঁদের পল্টন হামলার নির্দেশনা ও পরিকল্পনা বিষয়ক কথোপকথনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার র‌্যাব ঢাকা থেকে আল কায়েদাপন্থী জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। আগস্ট মাস জুড়েই সিটিটিসি নব্য জেএমবির বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদের মতে, করোনা পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে চলমান তদারকি ‘কিছুটা খর্ব’ হওয়ায় জঙ্গিরা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।

তবে এ ক্ষেত্রে “আমাদের পুলিশ বাহিনী যথেষ্ট বাধা তৈরি করতে পারছে,” মন্তব্য করে তিনি বলেন, “গোয়েন্দা তৎপরতার কারণে বর্তমানে এদেশে জঙ্গিরা গোপনে সংগঠিত হওয়ার সুযোগটা কম পাচ্ছে, নড়াচড়া করলেই ধরা পড়ছে।”

ঢাকা থেকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন শরীফ খিয়াম।

মন্তব্য (0)

সব মন্তব্য দেখুন.

মন্তব্য করুন

নিচের ঘরে আপনার মন্তব্য লিখুন। মন্তব্য করার সাথে সাথে তা প্রকাশ হয় না। একজন মডারেটর অনুমোদন দেবার পর মন্তব্য প্রকাশিত হয়। বেনারনিউজের নীতিমালা অনুসারে প্রয়োজানে মন্তব্য সম্পাদনা হতে পারে। প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য বেনারনিউজ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয়বস্তুর সাথে প্রাসঙ্গিক থাকুন।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন