খালেদার আপিল: সাজা বাতিল, জামিন ও জরিমানা স্থগিত চান আইনজীবীরা

জেসমিন পাপড়ি
2018.02.20
ঢাকা
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেয় বিএনপি। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেয় বিএনপি। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮।
মনিরুল আলম/বেনারনিউজ

কারাবাসের ১২ দিনের মাথায় জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এতে সাজার রায় বাতিল, জামিন ও জরিমানা স্থগিত চাওয়া হয়।

মঙ্গলবার উচ্চ আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল আবেদন জমা দেন তাঁর আইনজীবীরা। নথিপত্রসহ মোট ১২২৩ পৃষ্ঠার এই আবেদনে খালেদাকে দেওয়া সাজার রায়ের বিরুদ্ধে ৪৪টি যুক্তি দেখিয়ে তাঁর খালাস চাওয়া হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার এই আপিলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আপিল আবেদন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বেনারকে বলেন, “গতকাল বিকেলে আমরা রায়ের কপি পেয়েছি। একদিনের প্রস্তুতি শেষে আজ আমরা আপিল আবেদন জমা দিয়েছি। এই বৃহস্পতিবার আপিল গ্রহণের ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।”

নিম্ন আদালতের দেওয়া দীর্ঘ রায়ের পাঁচ ভাগের চার ভাগ একেবারেই অবান্তর বলে উল্লেখ করে মওদুদ বলেন, “এগুলোর কোনো গ্রাউন্ডস নেই। আপিলে তিনি (খালেদা) মুক্তি পাবেন আশা করি।”

এর আগে রায়ের অনুলিপি পাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা। খালেদার কারাবাস দীর্ঘায়িত করতেই রায়ের অনুলিপি দিতে দেরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছিল বিএনপি। যদিও এর জন্য বিএনপির আইনজীবীদের দেরিতে আবেদন করাকেই দায়ী করে আওয়ামী লীগ।

তবে রায় প্রকাশের ১১ দিন পর সোমবার রায়ের এক হাজার ১৬৮ পৃষ্ঠার সত্যায়িত অনুলিপি হাতে পান বিএনপির আইনজীবীরা। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় বিশেষ জজ আদালত-৫। এ ছাড়া তাঁর বড় ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে উচ্চ আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল আবেদন জমার পরে তা শুনানির জন্য বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের বেঞ্চে ওঠে। সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীন খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন। এ সময় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকারসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।

আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ।

মাহবুবে আলম বলেন, “আপিল গ্রহণযোগ্যতার শুনানির জন্য আমরা রোববার পর্যন্ত সময় চেয়েছিলাম। দীর্ঘ রায়টি আমি পড়া শুরু করেছি। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আপিল আবেদনের কপিও এখনো পাইনি।”

“আদালত সেটি আমাদেরকে সরবরাহ করতে তাঁদের নির্দেশ দিয়েছে। পেলে দেখব তাঁরা কোন কোন গ্রাউন্ডে আবেদন করেছেন,” বেনারকে বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

‘রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক অপরাধী খালেদা’

খালেদা জিয়াসহ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার আসামিরা রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক অপরাধ করেছেন বলে মূল রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছে আদালত।

মূল রায়ে বলা হয়, আসামিরা সরকারি এতিম তহবিলের টাকা এতিমদের কল্যাণে ব্যয় না করে পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাৎ করেন কিংবা করার কাজে সহায়তা করেন। এ কারণে তারা রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন।

মামলার আসামিদের আত্মসাৎকৃত এতিম তহবিলের ২ কোটি ৭১ লাখ ৬৩৪ টাকার বর্তমান মূল্য পরিমাণের দিক থেকে অধিক না হলেও ঘটনার সময়ে ওই পরিমাণ অনেক বেশি ছিল বলে রায়ে বলা হয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট নামে কোনো এতিমখানার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, “এতিমখানার কোনো স্থাপনা নেই। “সেখানে কোনো এতিম বসবাস করে না। ১৯৯৩ সালে ১৭টি দলিলের মাধ্যমে কেনা ২ একর ৭৯ শতাংশ জমি আজ পর্যন্ত ধানের জমি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।”

খালেদার স্বীকারোক্তি নিয়ে বিতর্ক

রায়ে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে তাঁর বক্তব্যে স্বীকার করেছেন।

তবে আদালত খালেদার এ বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে রায় দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে তাঁর আইনজীবীরা।

এ প্রসঙ্গে মওদুদ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “এটা ষড়যন্ত্রের অংশ। খালেদা জিয়ার যে বক্তব্য, সেটা পরীক্ষা করে দেখেছি। তাঁর বক্তব্যে একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন ছিল। সে প্রশ্নবোধক চিহ্নটাকে উঠিয়ে দিয়ে এখানে একটা দাঁড়ি দিয়ে দিয়েছে।”

আদালতের রায় নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিশেষ জজ আদালত-৫ এই মামলার রায় দেয়। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির জন্য পাঁচ বছরের সাজা ও জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছরের জেল ও জরিমানা করা হয়।

রায়ের পর থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।