চলে গেলেন বাংলা চলচ্চিত্রের প্রবাদ পুরুষ রাজ্জাক

জেসমিন পাপড়ি
ঢাকা
2017-08-21
Share
১৯৬৮ সালের আবির্ভাব চলচ্চিত্রে রাজ্জাক ও কবরী ১৯৬৮ সালের আবির্ভাব চলচ্চিত্রে রাজ্জাক ও কবরী
ছবি: নায়কের পরিবারের সৌজন্যে

চলে গেলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি ও শক্তিমান অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ৭৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই প্রবাদ পুরুষ। গতকাল বিকেলে উত্তরায় নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি।

সত্তরের দশকে সিনেমার জগতে আসা রাজ্জাকের এই প্রস্থানে দেশের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মহানায়কের মৃত্যুতে গভীর শোক ও তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্যরা।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বেনারকে বলেন, “বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের উত্থান ও গর্বিত পথচলায় নায়করাজ রাজ্জাকের অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি চলচ্চিত্র প্রিয় মানুষের কাছে চিরভাস্বর ও অমর হয়ে থাকবেন।”

“আজ বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে অসুস্থ অবস্থায় নায়ক রাজ্জাককে হাসপাতালে আনা হয়। তখন তাঁর হৃদক্রিয়া বন্ধ ছিল, পালস ও রক্তের চাপ ছিল না। সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত ডাক্তাররা,” সাংবাদিকদের জানান ইউনাইটেড হাসপাতালের মিডিয়া বিভাগের পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান শুভ।

নায়করাজের দুই সন্তান বাপ্পারাজ ও সম্রাট চলচ্চিত্রে বাবার উত্তরসূরী। তাৎক্ষণিকভাবে বাবার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান রাজ্জাকের জ্যেষ্ঠপুত্র বাপ্পারাজ।

তিনি সাংবাদিকবদের জানান, “মেজ ভাই বাপ্পী কানাডা থেকে ফেরার পর বনানী কবরস্থানে বাবাকে দাফনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে বাবার মরদেহ। শেষবারের মতো এফডিসি প্রাঙ্গণেও তাঁর মরদেহ নেওয়া হবে।”

নায়করাজের মৃত্যুর খবরের পর থেকে হাসপাতালে ছুটে গেছেন সরকারের মন্ত্রী থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র জগতে তাঁর তিন প্রজন্মের সহকর্মীরা। সামাজিক গণমাধ্যমও যেন হয়ে উঠেছে প্রিয় নায়কের শোক বই।

তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী চিত্রনায়িকা ববিতা বেনারকে বলেন, “নায়ক রাজ্জাকের এ বিদায় মেনে নেওয়া বড়ই কষ্টকর। একজন অভিভাবককে হারালো বাংলাদেশের চলচ্চিত্র।”

এদিকে নায়করাজের মৃত্যুতে আগামী তিনদিন শুটিং বাতিল করেছে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি।

সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন বেনারকে জানান, “বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় নায়করাজ রাজ্জাক। তাঁর সম্মানে তিন দিন শুটিং বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করছেন নায়করাজ রাজ্জাক। ২৫ মার্চ ২০১৫।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করছেন নায়করাজ রাজ্জাক। ২৫ মার্চ ২০১৫।
ফোকাস বাংলা

শূন্য থেকে নায়ক হয়ে ওঠা

১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি অবিভক্ত ভারতের কলকাতার কালীগঞ্জের নাকতলায় জন্ম নেন রাজ্জাক। কলকাতার খানপুর হাই স্কুলে পড়ার সময় শিক্ষকের অনুপ্রেরণায় শিশু-কিশোরদের নিয়ে লেখা নাটক ‘বিদ্রোহী’তে অভিনয় করেন সপ্তম শ্রেণির রাজ্জাক। সেই শুরু। তারপরের গল্প শূন্য থেকে তাঁর নায়ক রাজ হয়ে ওঠার।

কৈশোরে ফুটবলার হওয়ার শখ থাকলেও সাংস্কৃতিক জগতেই ডানা মেলেন তিনি। ১৯৬৪ সালের দাঙ্গার পর ক্যারিয়ার গড়তেই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন রাজ্জাক। শুরুতে বেশ কিছু ছবিতে ছোট চরিত্রে অভিনয় করলেও ভালো চরিত্রের ডাক পাননি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাঁকাতে হয়নি তাঁকে।

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে সর্বদা থেকেছেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। বাংলা-উর্দু মিলিয়ে তাঁর অভিনীত ছবির সংখ্যা তিন শতাধিক। এসবের জন্য পেয়েছেন স্বাধীনতা পদক (২০১৫), পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ (সেরা অভিনেতা) বহু পুরস্কার।

অভিনয়ের পাশাপাশি প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন মহানায়ক। কাজ করেছেন জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের শুভেচ্ছা দূত হিসেবেও।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন